ছবি ছাড়া এনআইডি তৈরির রুল খারিজ করলেন হাইকোর্ট
- আপডেট সময় : ০১:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 24
ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির সুযোগ চেয়ে করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ছবি ছাড়া এনআইডি পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। মামলার শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও ইলিয়াছ আলী মন্ডল অংশ নেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী।
আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত রুলটি খারিজ করে দিয়েছেন, যার ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের কোনো আইনি সুযোগ নেই। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, রাজধানীর শাহজাহানপুরের শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা ২০২২ সালে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। রিটে তার স্বামী মুহম্মদ আরিফুর রহমানকে অথরাইজড ব্যক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর আগে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে ছবি ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থায় এনআইডি তৈরির জন্য আবেদন করেছিলেন।
আবেদনে সুমাইয়া আহমাদ মুনা উল্লেখ করেছিলেন যে, তিনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্দানশীন মুসলিম নারী এবং ইসলামী শরিয়তের বিধান মেনে চলেন। ধর্মীয় কারণে তিনি ছবি তোলেন না, যার ফলে তার কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। এনআইডি না থাকায় তিনি বিভিন্ন সরকারি ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন। নির্বাচন কমিশন তার আবেদনটি নিষ্পত্তি না করায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানির পর ২০২২ সালের ৬ মার্চ হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছিলেন। রুলে ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে এনআইডি তৈরির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
রুলের বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষ শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি ছিল, ছবি ছাড়া এনআইডি প্রদানের আবেদনটি সংবিধান পরিপন্থী। বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ছবির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, হজে যাওয়া কিংবা ব্যাংক হিসাব খোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও ছবি বাধ্যতামূলক। এছাড়া ছবি ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন ওঠে। রাষ্ট্রপক্ষ আরও যুক্তি দেয় যে, শুধু বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পরিচয় নিশ্চিত করতে গেলেও চোখের আইরিশ স্ক্যান করার প্রয়োজন হতে পারে, যেখানে পর্দা তুলে পরিচয় শনাক্ত করার বাধ্যবাধকতা আসতে পারে। দীর্ঘ শুনানি ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনার পর হাইকোর্ট রুলটি খারিজ করে দিলেন।



















