ঢাকার ৩৫ এলাকায় ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি
- আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 11
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত অন্তত ৩৫টি এলাকাকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় চালানো পর্যবেক্ষণে বাড়িঘরে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন বিশেষ কর্মসূচি বা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে, তবুও কীটতত্ত্ববিদদের মতে অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত দুই মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় চার গুণ এবং মৃত্যুর হার তিন গুণের বেশি বেড়েছে। কেবল সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৬ দিনে আক্রান্ত ৩৫ হাজারেরও বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং এই অল্প সময়ে ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই হিসাব শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া অসংখ্য রোগীর তথ্য এই পরিসংখ্যানের বাইরে রয়ে গেছে। এ সময়ে মারা গেছেন অন্তত ১১৭ জন।
বর্তমানে দুই সিটি করপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫ এলাকায় দেড় শতাধিক হটস্পট সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৮টি এলাকা চিহ্নিত হয়েছে, যার তালিকায় মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডা ও উত্তরা রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৭টি হটস্পট এলাকার মধ্যে ধানমন্ডি, শাহবাগ, সেগুনবাগিচা, খিলগাঁও, লালবাগ ও যাত্রাবাড়ী অন্যতম।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, অনেক এলাকায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে, যার জন্য জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম জানান, হটস্পটগুলোতে ক্রাশ প্রোগ্রামের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সিটি করপোরেশনগুলো আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। আইন প্রয়োগ আরও শক্তভাবে করারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার সতর্ক করে বলেছেন, সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুর আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে এমনটা নিশ্চিত নয়। চলমান ক্রাশ প্রোগ্রামের কার্যকারিতা অক্টোবরের পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলবে। যদি এই কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অক্টোবরে ডেঙ্গুর বিস্তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কীটতত্ত্ববিদেরা বলছেন, সেপ্টেম্বরই ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ আক্রান্তের সময় নয়।













