পশ্চিমা গণমাধ্যমের যুদ্ধের বয়ান পক্ষপাতদুষ্ট ও অন্যায়
- আপডেট সময় : ০৩:৪২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহকে পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমগুলো অত্যন্ত অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্টভাবে উপস্থাপন করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী। মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব গণমাধ্যম: নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। রাষ্ট্রদূত স্পষ্টভাবে জানান, ফিলিস্তিন ও গাজার নির্যাতিত ও বাস্তুচ্যুত মানুষকে পশ্চিমা গণমাধ্যম ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিত্রিত করছে, অন্যদিকে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের হত্যাকারী ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার রক্ষক’ হিসেবে উপস্থাপন করে জনমতকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
গণমাধ্যম যুদ্ধের কৌশলী বয়ান
ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা যখন কোনো সামরিক আক্রমণ চালায়, তখন তাদের যুদ্ধের কৌশলের অন্যতম প্রধান দিক হলো ‘মিডিয়া যুদ্ধ’ বা গণমাধ্যম যুদ্ধ। তিনি সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমাদের এই যুদ্ধের বয়ান বা ন্যারেটিভ সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট। তারা যুদ্ধের বাস্তব চিত্র আড়াল করে আক্রমণকারীদের কর্মকাণ্ডকে যৌক্তিক প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুদ্ধ আইনের অধীনে হাসপাতাল, শিশু, বিদ্যালয়, নারী কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপনায় আক্রমণ করা যে ভয়াবহ অপরাধ, তা পশ্চিমা গণমাধ্যমে কেন প্রশ্ন হিসেবে আসে না? তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পক্ষে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরাই স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। এই সংঘাতের সময় গণমাধ্যমকে কোনো পক্ষের হয়ে কাজ না করে বরং ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাক্ষ্য প্রমাণ ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা
- বিশ্বের সকল স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী বলেন, তারা যেন সরাসরি ইরানে এসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের ভয়াবহতা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেন।
- বক্তব্যের শুরুতে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের জনগণ ইরানিদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
- তিনি দুই দেশের জনগণের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অক্ষুণ্ন থাকবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। এছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক এবং আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ ইহসানুল কবীর। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং যুদ্ধকালীন সংবাদমাধ্যমের নৈতিকতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।





















