জাইমা রহমানের জাতিসংঘে চাকরি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করলেন মাহ্দী
- আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 0
জাতিসংঘের একটি পি-৩ (P-3) পদে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের নিয়োগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিতর্ক ও গুজবের কড়া জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জাইমা রহমান তার ব্যক্তিগত মেধা, একাডেমিক যোগ্যতা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি জানান, জাতিসংঘের নির্বাহী কার্যালয়ের অধীনে হিউম্যান রিসোর্সেস টিম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই আন্তর্জাতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার বা সরকারের কোনো স্থায়ী মিশনের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সফর নিয়ে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী আমিন বলেন, আপনারা নিজেরাই তো বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে কোনো চাকরি দেয়া হয়নি, এমনকি জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী মিশনেও তার কোনো পদায়ন হয়নি। এ বিষয়ে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট করা দরকার। তিনি বাংলাদেশ সরকারি প্রতিনিধিদলেরও কোথাও সম্পৃক্ত হননি।
মাহ্দী আমিন নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, জাতিসংঘের প্রফেশনাল কাঠামোতে পি-১ থেকে পি-৩ পদের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। একজন প্রার্থীকে পি-৩ পদে নিয়োগ পেতে অন্তত পাঁচ বছরের মধ্যবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। জাইমা রহমানের পেশাগত প্রোফাইল এই পদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সরাসরি জাতিসংঘের সদরদপ্তরে এবং ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এই নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া ও আর্থিক সুবিধা জাতিসংঘই বহন করে থাকে, ফলে সরকারি প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের যে গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যে কেউ চাইলে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখলেই এই পদের যাবতীয় তথ্য ও নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাই করতে পারবেন। মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘের প্রফেশনাল কাঠামোতে পি-১ হলো নতুন স্নাতকদের জন্য, পি-২ এর জন্য ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতা লাগে এবং পি-৩ পদের জন্য প্রয়োজন হয় অন্তত পাঁচ বছরের মধ্যবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতা। এর ওপরে পি-৪, পি-৫ বা ডিরেক্টর লেভেলের উচ্চপদ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী গতানুগতিক ধারা ভেঙে এবার অত্যন্ত ছোট বহর নিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সফর করেছেন। তিনি তুর্কি এয়ারলাইন্স ও এমিরেটস এয়ারলাইন্স ব্যবহার করেছেন। ৩৫ সদস্যের আনুষ্ঠানিক এই প্রতিনিধিদলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং বিশেষ পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ৮০টিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, যা বাংলাদেশের শক্তিশালী অংশগ্রহণের প্রমাণ বহন করে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, সফর শেষে প্রতিনিধিদলের একটি অংশ সেখানে প্রযুক্তি, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়াতে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এই সফরে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি মোট ৮টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং ৩টিতে বক্তব্য রেখেছেন। এর মধ্যে উইমেন লিডার্স প্ল্যাটফর্ম এবং ওয়ার্ল্ড ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের দর্শন তুলে ধরে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছেন। মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ অনুষ্ঠানেও তিনি বিশ্বের শীর্ষ ফার্স্ট লেডিদের সাথে মতবিনিময় করেছেন।
মাহ্দী আমিন আরও যোগ করেন, ডা. জুবাইদা রহমান একজন চিকিৎসক হিসেবে মিডওয়াইফারি সাইড ইভেন্টে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক মিশনে অন্তর্ভুক্তির যে চর্চা অতীতে দেখা যেত, এবার তার কোনো উপস্থিতি ছিল না। জাইমা রহমান সরকারি কোনো প্রতিনিধিদলের অংশ ছিলেন না। বরং তিনি নিজের যোগ্যতা ও সক্ষমতায় বিশ্বদরবারে জায়গা করে নিয়েছেন। একে রাজনৈতিকভাবে অপব্যাখ্যা করা দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরিশেষে মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকারপ্রধানের এই সফর বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের মর্যাদা নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে প্রতিটি ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিটি নিশ্চিত করা হয়েছে। সমতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ আজ এক ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা ও আত্মপরিচয় বিশ্বজুড়ে উজ্জ্বল হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।






















