ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৮ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়ল অক্টোবর থেকেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত কক্সবাজার বিমানবন্দর বিদেশি কূটনীতির আবর্তে আচ্ছন্ন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি জাতীয়করণের অপেক্ষায় মাদারীপুরের শতবর্ষী এনায়েতনগর মাদরাসা জাইমা রহমানের জাতিসংঘে চাকরি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করলেন মাহ্দী বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথভাবে দ্বিতীয় শাহজালালে ৮১ লিটার বিদেশি মদসহ দুই যাত্রী আটক সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপির স্ত্রীর জামিন মঞ্জুর মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ইআবি উপাচার্যের বিশেষ বৈঠক নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গ্রেপ্তার

বিদেশি কূটনীতির আবর্তে আচ্ছন্ন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি

  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশজুড়ে চলমান নানা অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিতর্কের আড়ালে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’-এর স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের ভেতরেই এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিগত সরকারের সময়কার চাঁদাবাজি, দখলবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য, বালু ও আদম ব্যবসার মতো সিন্ডিকেটগুলো বর্তমান সরকারের আমলে নতুন মোড় নিয়েছে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক ক্ষমতা ব্যবস্থাপনা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর দৃশ্যমান প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সরকারি পলিসিগুলো বাস্তবায়নে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সচিবালয়ে গিয়ে থমকে যাচ্ছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং সচিবদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও চতুর্মুখী টানাপোড়েন সরকারের মূল প্রশাসনিক কাঠামোকে অনেকটাই অকার্যকর করে তুলছে। ঢালাও অভিযোগ, ঢালাও অস্বীকার, তর্ক, বাদানুবাদ, ষড়যন্ত্র মাড়িয়ে টেইক ব্যাক বাংলাদেশের নামে আজকের ক্ষমতাসীনরা টেইক ওভার করে ফেলেছে বিগতদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, নিয়োগবাজি, বালুর ব্যবসা, আদম ব্যবসা, টেন্ডারবাজিসহ মাদক নেটওয়ার্কও। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও তাদের দখল, হামলা, ভাঙচুর, লুট-কাণ্ড। সেই সঙ্গে কিশোর গ্যাং ও মাদকের ভয়ানক বিস্তার। কোথাও জমি ও স্থাপনা দখল, কোথাও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং কোথাও আবাসন প্রকল্পে হামলার এক একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে এরা ভেতরে ভেতরে মহাবিপর্যয় ঘটিয়ে খেতে বসেছে সরকারকে-বিএনপিকে। কাজে দিচ্ছে না সরকারের কোর্স অব অ্যাকশন। এতে অভিযোগ ও ব্যর্থতার তীর তার সেটআপের দিকে। মন্ত্রী, উপদেষ্টা, এমপিদের কারও কারও ক্ষমতার অপচর্চাও চরমে। নীতি, ক্ষমতা, তদবির ও কাজ দেওয়ার ব্যাপারে কনফ্লিক্টও হচ্ছে তাদের মধ্যে।

এই জটিলতার মাঝে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বেশ কিছু নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতীয় গণমাধ্যম রেডিফ জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ঢাকা সফর করেছেন। আগের একটি সফর পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর বর্তমানে আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের নতুন সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা কোনো মন্তব্য করবেন না। অন্যদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলে মন্তব্য করেছেন।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে আলেক্স সরোসের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদমাধ্যম নিউজ২৪ ও নবভারত টাইমসের দাবি, নিউইয়র্কে আলেক্সের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভøাদিমির পুতিন, শি জিনপিং এবং নরেন্দ্র মোদির মতো বিশ্বনেতারা সোরস পরিবারের কার্যক্রমকে সন্দেহের চোখে দেখেন। এহেন প্রেক্ষাপটে আলেক্স সরোসের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এর ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সরকার নতুন কোনো সংকটে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদেশি কূটনীতির আবর্তে আচ্ছন্ন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি

আপডেট সময় : ০৮:৪০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান নানা অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিতর্কের আড়ালে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’-এর স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের ভেতরেই এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিগত সরকারের সময়কার চাঁদাবাজি, দখলবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য, বালু ও আদম ব্যবসার মতো সিন্ডিকেটগুলো বর্তমান সরকারের আমলে নতুন মোড় নিয়েছে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক ক্ষমতা ব্যবস্থাপনা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর দৃশ্যমান প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সরকারি পলিসিগুলো বাস্তবায়নে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সচিবালয়ে গিয়ে থমকে যাচ্ছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং সচিবদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও চতুর্মুখী টানাপোড়েন সরকারের মূল প্রশাসনিক কাঠামোকে অনেকটাই অকার্যকর করে তুলছে। ঢালাও অভিযোগ, ঢালাও অস্বীকার, তর্ক, বাদানুবাদ, ষড়যন্ত্র মাড়িয়ে টেইক ব্যাক বাংলাদেশের নামে আজকের ক্ষমতাসীনরা টেইক ওভার করে ফেলেছে বিগতদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, নিয়োগবাজি, বালুর ব্যবসা, আদম ব্যবসা, টেন্ডারবাজিসহ মাদক নেটওয়ার্কও। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও তাদের দখল, হামলা, ভাঙচুর, লুট-কাণ্ড। সেই সঙ্গে কিশোর গ্যাং ও মাদকের ভয়ানক বিস্তার। কোথাও জমি ও স্থাপনা দখল, কোথাও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং কোথাও আবাসন প্রকল্পে হামলার এক একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে এরা ভেতরে ভেতরে মহাবিপর্যয় ঘটিয়ে খেতে বসেছে সরকারকে-বিএনপিকে। কাজে দিচ্ছে না সরকারের কোর্স অব অ্যাকশন। এতে অভিযোগ ও ব্যর্থতার তীর তার সেটআপের দিকে। মন্ত্রী, উপদেষ্টা, এমপিদের কারও কারও ক্ষমতার অপচর্চাও চরমে। নীতি, ক্ষমতা, তদবির ও কাজ দেওয়ার ব্যাপারে কনফ্লিক্টও হচ্ছে তাদের মধ্যে।

এই জটিলতার মাঝে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বেশ কিছু নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতীয় গণমাধ্যম রেডিফ জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ঢাকা সফর করেছেন। আগের একটি সফর পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর বর্তমানে আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের নতুন সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা কোনো মন্তব্য করবেন না। অন্যদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলে মন্তব্য করেছেন।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে আলেক্স সরোসের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদমাধ্যম নিউজ২৪ ও নবভারত টাইমসের দাবি, নিউইয়র্কে আলেক্সের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভøাদিমির পুতিন, শি জিনপিং এবং নরেন্দ্র মোদির মতো বিশ্বনেতারা সোরস পরিবারের কার্যক্রমকে সন্দেহের চোখে দেখেন। এহেন প্রেক্ষাপটে আলেক্স সরোসের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এর ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সরকার নতুন কোনো সংকটে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।