ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বৈরাচার শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি টঙ্গীর তুরাগ নদে নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর দুই শিশুর সরকারি মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিতের নির্দেশ, অমান্য করলে ব্যবস্থা ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসিক এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৪ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রোহিঙ্গাদের গ্রাম দখল ও নিরাপত্তা ঘটনায় আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আহ্বান প্রেসিডেন্টের সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতা ঘটাতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় হাতে হাত রেখে, আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে’ শিরোনামে এক বিশেষ বিবৃতিতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বর্তমানে চীন ও বাংলাদেশ সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর অভিন্ন অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে দুই দেশ ভালো প্রতিবেশী, বিশ্বস্ত বন্ধু এবং কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চমৎকার সম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বন্ধুত্ব উভয় দেশ ও তাদের জনগণের মৌলিক স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চলতি বছর বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫১তম বর্ষপূর্তি এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতার ১০ম বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এই মাইলফলক বছরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক চীন সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশ সংস্কার ও উন্নয়নের যে নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তিনি বাংলাদেশের জনগণের দৃঢ়তা এবং তাদের জাতীয় মর্যাদাবোধের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

বাংলাদেশে টানা তিন বছর নয় মাস দায়িত্ব পালনের পর বিদায়ের আগে ইয়াও ওয়েন তার স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বলেন, এই সময়টুকু তার কূটনৈতিক জীবনের সবচেয়ে অর্থবহ ও পরিপূর্ণ অধ্যায়। তিনি জানান, প্রায় ১ হাজার ৩০০ দিনেরও বেশি সময় তিনি বাংলাদেশে অতিবাহিত করেছেন, যা তার কাছে সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কেবল রাজধানী ঢাকার অলিগলি নয়, বরং চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখেছেন।

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ দেশের যুবশক্তিই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং দেশের ভবিষ্যৎ। তিনি বিভিন্ন নির্মাণস্থলে কাজ করা শ্রমিক কিংবা গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ও উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষা প্রত্যক্ষ করেছেন। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাদের এই অদম্য স্পৃহা ও দৃঢ়তা তার ওপর গভীর ছাপ ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে যেতে পেরেছে, যা উভয় দেশের জনগণের জন্য অধিকতর সুফল বয়ে আনছে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন চীনের বর্তমান উন্নয়ন ধারা সম্পর্কে বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বে দেশটি নিজস্ব বাস্তবতা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিকায়নের পথে নিরন্তর এগিয়ে চলছে। বিদায়বেলায় তিনি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত ও কথোপকথনকে পরম মমতায় স্মরণ করবেন বলে জানান। দুই দেশের এই টেকসই ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

আপডেট সময় : ০৪:২৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় হাতে হাত রেখে, আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে’ শিরোনামে এক বিশেষ বিবৃতিতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বর্তমানে চীন ও বাংলাদেশ সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর অভিন্ন অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে দুই দেশ ভালো প্রতিবেশী, বিশ্বস্ত বন্ধু এবং কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চমৎকার সম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বন্ধুত্ব উভয় দেশ ও তাদের জনগণের মৌলিক স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চলতি বছর বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫১তম বর্ষপূর্তি এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতার ১০ম বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এই মাইলফলক বছরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক চীন সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশ সংস্কার ও উন্নয়নের যে নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তিনি বাংলাদেশের জনগণের দৃঢ়তা এবং তাদের জাতীয় মর্যাদাবোধের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

বাংলাদেশে টানা তিন বছর নয় মাস দায়িত্ব পালনের পর বিদায়ের আগে ইয়াও ওয়েন তার স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বলেন, এই সময়টুকু তার কূটনৈতিক জীবনের সবচেয়ে অর্থবহ ও পরিপূর্ণ অধ্যায়। তিনি জানান, প্রায় ১ হাজার ৩০০ দিনেরও বেশি সময় তিনি বাংলাদেশে অতিবাহিত করেছেন, যা তার কাছে সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কেবল রাজধানী ঢাকার অলিগলি নয়, বরং চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখেছেন।

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ দেশের যুবশক্তিই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং দেশের ভবিষ্যৎ। তিনি বিভিন্ন নির্মাণস্থলে কাজ করা শ্রমিক কিংবা গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ও উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষা প্রত্যক্ষ করেছেন। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাদের এই অদম্য স্পৃহা ও দৃঢ়তা তার ওপর গভীর ছাপ ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে যেতে পেরেছে, যা উভয় দেশের জনগণের জন্য অধিকতর সুফল বয়ে আনছে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন চীনের বর্তমান উন্নয়ন ধারা সম্পর্কে বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বে দেশটি নিজস্ব বাস্তবতা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিকায়নের পথে নিরন্তর এগিয়ে চলছে। বিদায়বেলায় তিনি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত ও কথোপকথনকে পরম মমতায় স্মরণ করবেন বলে জানান। দুই দেশের এই টেকসই ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।