সিলেট-চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি তুরস্ক ফ্লাইট চালুর আহ্বান মন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০১:৩৮:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বুধবার ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। মন্ত্রী বলেন, এই দুই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হলে প্রবাসী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের যাতায়াত সহজতর হবে। বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য ঢাকায় আসার প্রয়োজন কমবে, যা যাত্রীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ে সহায়তা করবে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল, পর্যটন উন্নয়ন ও বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বর্তমানে একটি তুরস্কভিত্তিক এয়ারলাইনস ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এই রুটে আরও তিনটি সাপ্তাহিক ফ্লাইট বৃদ্ধির বিষয়ে তুরস্কের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন মন্ত্রী। এ ছাড়া ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা ও সুযোগ আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ আট বছরের বিরতি কাটিয়ে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে পুনরায় বিদেশি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চালু হয়েছে, যেখানে ওমানভিত্তিক একটি এয়ারলাইনস সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
বিমান যোগাযোগের বাইরেও পর্যটন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের যে সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তুরস্কের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও উভয় পক্ষ আলোচনা করেছে।
বৈঠকে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেন ছাড়াও দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর বিলাল বেলইউর্ট এবং তুরস্কের একটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইসলাম গুরে অংশ নেন। দুই দেশের মধ্যে জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষই সমান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সিলেট ও চট্টগ্রামের মানুষের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখে সরাসরি ফ্লাইট চালুর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা উভয় দেশের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বৈঠকে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।


















