মুন্সীগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় অভিভাবক গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৭:২৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় বিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ ও আছাড় দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ইছাপুরা ইউনিয়নের রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নাহিদ শেখকে স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের ভেতরেই চিহ্নিত করেন এবং খবর পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ ঘোষ বাদী হয়ে নাহিদ শেখের বিরুদ্ধে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিমূলক কুচকাওয়াজ শেষে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসে। ঘটনার মূলে রয়েছে আগের দিনের একটি ঝগড়া। গত বুধবার ষষ্ঠ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরোধ বা হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে এক শিক্ষার্থীর চাচা নাহিদ শেখ অতর্কিতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, শ্রেণিকক্ষে ঢুকে তিনি প্রতিপক্ষ হিসেবে সন্দেহ করা এক শিক্ষার্থীকে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং একপর্যায়ে তাকে তিনবার তুলে আছাড় মারেন। এ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করলে শিক্ষকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রধান শিক্ষক তাৎক্ষণিকভাবে নাহিদ শেখকে ধরে তার ব্যক্তিগত কক্ষে নিয়ে যান এবং সিরাজদীখান থানা পুলিশকে খবর দেন।
এদিকে, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে মারধরের এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদের মীমাংসা হতে পারত প্রধান শিক্ষকের মধ্যস্থতায়, যা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই পথ এড়িয়ে একজন অভিভাবক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঢুকে যেভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত নাহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি উপজেলার পূর্ব রাজদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর জব্বার শেখের ছেলে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিরাজদীখানের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।






















