ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই: দীনেশ ত্রিবেদী কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ৪ শীর্ষ নেতা কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছালো ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী খাবার পিঠালি: স্বাদে ও সংস্কৃতিতে অনন্য আমরা এখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী মদিনা ফ্লাইটের অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানি: নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি হুথিদের মোকাবিলায় ইয়েমেনে চার কার্গো অস্ত্র পাঠালো পাকিস্তান বগুড়ার শেরপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক তরুণ হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে সৌদি ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪টি সামরিক অভিযান

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ৪ শীর্ষ নেতা কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার

  • আপডেট সময় : ০২:৩৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লা জেলায় কিশোর অপরাধ নির্মূলে চলমান বিশেষ অভিযানে গত ১০ দিনে মোট ২ হাজার ৩৫ জন সন্দেহভাজন কিশোরকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার ও কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িত ৪ শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন

  1. ‘র’ গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা ইমরান হোসেন রতন (১৯) ও সাইফুল ইসলাম (২০)
  2. ক্রাইম সেটআপের মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪)
  3. রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪)

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমরান হোসেন রতনের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই ও মাদকসহ মোট ৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক ধারায় ১০টি মামলা এবং ‘পয়েন্ট সাব্বির’ ও ‘কিং মেকার’ নবীর বিরুদ্ধে একটি করে মামলা চলমান রয়েছে। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান (পিপিএম)-এর নির্দেশনায় জেলাজুড়ে ১০ দিন ধরে এই সাঁড়াশি অভিযান চলছে। অভিযানে আটক হওয়াদের মধ্য থেকে নিবিড় যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের পর অপরাধে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া অনেককে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের মুখে অনেক গ্যাং সদস্য আত্মগোপনে চলে গেলেও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমুদ্রসৈকত এলাকা কক্সবাজারসহ কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, সমাজ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কোনো কিশোর গ্যাং বা তাদের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এই অপসংস্কৃতি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অভিভাবকদের প্রতি নিজ নিজ সন্তানের চালচলন ও মেলামেশার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম মর্মান্তিক ঘটনার পর কিশোর গ্যাং নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশের তদন্তে সেই ঘটনায় গ্যাং কালচারের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে, যার প্রেক্ষিতে পুরো জেলায় গত ১০ দিনে পাঁচ দফায় ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। তদন্তে নেমে উক্ত হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত দুই কিশোরের গ্যাং কালচারের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ৪ শীর্ষ নেতা কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০২:৩৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লা জেলায় কিশোর অপরাধ নির্মূলে চলমান বিশেষ অভিযানে গত ১০ দিনে মোট ২ হাজার ৩৫ জন সন্দেহভাজন কিশোরকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার ও কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িত ৪ শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন

  1. ‘র’ গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা ইমরান হোসেন রতন (১৯) ও সাইফুল ইসলাম (২০)
  2. ক্রাইম সেটআপের মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪)
  3. রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪)

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমরান হোসেন রতনের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই ও মাদকসহ মোট ৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক ধারায় ১০টি মামলা এবং ‘পয়েন্ট সাব্বির’ ও ‘কিং মেকার’ নবীর বিরুদ্ধে একটি করে মামলা চলমান রয়েছে। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান (পিপিএম)-এর নির্দেশনায় জেলাজুড়ে ১০ দিন ধরে এই সাঁড়াশি অভিযান চলছে। অভিযানে আটক হওয়াদের মধ্য থেকে নিবিড় যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের পর অপরাধে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া অনেককে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের মুখে অনেক গ্যাং সদস্য আত্মগোপনে চলে গেলেও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমুদ্রসৈকত এলাকা কক্সবাজারসহ কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, সমাজ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কোনো কিশোর গ্যাং বা তাদের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এই অপসংস্কৃতি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অভিভাবকদের প্রতি নিজ নিজ সন্তানের চালচলন ও মেলামেশার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম মর্মান্তিক ঘটনার পর কিশোর গ্যাং নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশের তদন্তে সেই ঘটনায় গ্যাং কালচারের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে, যার প্রেক্ষিতে পুরো জেলায় গত ১০ দিনে পাঁচ দফায় ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। তদন্তে নেমে উক্ত হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত দুই কিশোরের গ্যাং কালচারের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ।