ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচারহীনতার অবসান চায় ডুজা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন কার্ল ডাইসারথসহ তিন বিজ্ঞানী ছিনতাইকারী ধাওয়া করতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল পুলিশ নতুন ঋণের আগে আইএমএফের চার চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ জরুরি: সিইসি অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় নতুন কৌশল গ্রহণ ইরানের রাজধানীতে অটোরিকশা চালকদের অবরোধ, বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ইরানে স্টারলিংক সেবা চালুর অভিযোগে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত তলব মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে সামরিক পথ ছাড়ার আহ্বান ইরানের

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন কার্ল ডাইসারথসহ তিন বিজ্ঞানী

  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চিকিৎসাবিজ্ঞানের রহস্য সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এবার এই সম্মাননা যৌথভাবে পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী—যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ল ডাইসারথ, জার্মানির হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পিটার হেগেম্যান এবং ওয়ার্জবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেয়র্গ নাগেল। সোমবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করে। মূলত ‘অপটোজেনেটিক্স’ নামক এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য তাদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে আলোর সাহায্যে জীবন্ত মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ বা নিউরন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

নোবেল কমিটির ভাষ্যমতে, এই তিন গবেষক শৈবাল থেকে সংগৃহীত বিশেষ আলোক-সংবেদনশীল প্রোটিন ‘চ্যানেলরোডপসিন’ ব্যবহারের কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে স্তন্যপায়ী প্রাণীর নির্দিষ্ট নিউরনে আলোর মাধ্যমে উদ্দীপনা সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। স্নায়ুবিজ্ঞান ও মস্তিষ্কের জটিল কার্যপ্রণালি গবেষণায় এটি এক যুগান্তকারী মাইলফলক। বিশেষ করে পারকিনসনস, আলঝেইমারস, বিষণ্ণতা এবং অন্ধত্বের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় নতুন পথ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তাদের এই গবেষণা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গবেষণার নেপথ্যে পিটার হেগেম্যান ও গেয়র্গ নাগেল এককোষী শৈবালের ভেতর আলো শনাক্তকারী প্রোটিনের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে কার্ল ডাইসারথ এই উদ্ভাবনী কাজকে আরও বিস্তৃত করেন এবং ইঁদুরের জীবন্ত মস্তিষ্কে অপটিক্যাল ফাইবারের সাহায্যে আলো প্রক্ষেপণ করে সুনির্দিষ্ট নিউরন নিয়ন্ত্রণ করে দেখান। তাদের এই অসাধারণ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল পদক ও পুরস্কারের অর্থ বিজয়ীদের মধ্যে সমভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। আগামী ১০ই ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন কার্ল ডাইসারথসহ তিন বিজ্ঞানী

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

চিকিৎসাবিজ্ঞানের রহস্য সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এবার এই সম্মাননা যৌথভাবে পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী—যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ল ডাইসারথ, জার্মানির হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পিটার হেগেম্যান এবং ওয়ার্জবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেয়র্গ নাগেল। সোমবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করে। মূলত ‘অপটোজেনেটিক্স’ নামক এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য তাদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে আলোর সাহায্যে জীবন্ত মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ বা নিউরন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

নোবেল কমিটির ভাষ্যমতে, এই তিন গবেষক শৈবাল থেকে সংগৃহীত বিশেষ আলোক-সংবেদনশীল প্রোটিন ‘চ্যানেলরোডপসিন’ ব্যবহারের কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে স্তন্যপায়ী প্রাণীর নির্দিষ্ট নিউরনে আলোর মাধ্যমে উদ্দীপনা সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। স্নায়ুবিজ্ঞান ও মস্তিষ্কের জটিল কার্যপ্রণালি গবেষণায় এটি এক যুগান্তকারী মাইলফলক। বিশেষ করে পারকিনসনস, আলঝেইমারস, বিষণ্ণতা এবং অন্ধত্বের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় নতুন পথ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তাদের এই গবেষণা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গবেষণার নেপথ্যে পিটার হেগেম্যান ও গেয়র্গ নাগেল এককোষী শৈবালের ভেতর আলো শনাক্তকারী প্রোটিনের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে কার্ল ডাইসারথ এই উদ্ভাবনী কাজকে আরও বিস্তৃত করেন এবং ইঁদুরের জীবন্ত মস্তিষ্কে অপটিক্যাল ফাইবারের সাহায্যে আলো প্রক্ষেপণ করে সুনির্দিষ্ট নিউরন নিয়ন্ত্রণ করে দেখান। তাদের এই অসাধারণ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল পদক ও পুরস্কারের অর্থ বিজয়ীদের মধ্যে সমভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। আগামী ১০ই ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হবে।