ঢাকা ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে ইসরাইল: সিআইএ’র বিশেষ প্রতিবেদনে শঙ্কার চিত্র

  • আপডেট সময় : ০৪:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা ও নানাবিধ রাজনৈতিক বিভাজনের ফলে ইসরাইল বর্তমানে গৃহযুদ্ধ বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অভ্যন্তরীণ ধসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) একটি বিশেষ ‘বিকল্প বিশ্লেষণ’ প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার ড্রপ সাইট নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিডল ইস্ট আই। ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনটি সংস্থাটির ‘রেড সেল’ নামক একটি বিশেষ ইউনিট তৈরি করেছে, যাদের কাজ হলো প্রচলিত ধারণার বাইরে ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা। ইসরাইলিদের মধ্যে উত্তেজনার কারণে দেশটি অভ্যন্তরীণভাবে ধসে পড়া বা গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনটি এমন একটি নির্বাচনের আগে তৈরি হওয়া চাপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে কোনো চূড়ান্ত ফলাফল নাও দিতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ অক্টোবরের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরাইল চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী এই নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের গরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই অনিশ্চিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। ইসরাইলে জনমত জরিপগুলো বলছে, নেতানিয়াহু কিংবা তার বিরোধী জোট—কোনোটিই পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নাও পেতে পারে।

ইসরাইলি সমাজে বিভাজনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অতি-রক্ষণশীল বা আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান থেকে অব্যাহতি। ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) ও শাস দল দুটি নেতানিয়াহুর প্রধান মিত্র হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে যুদ্ধের কারণে রিজার্ভ সেনার প্রয়োজনীয়তা বাড়লেও অতি-রক্ষণশীল পুরুষরা ধর্মীয় শিক্ষার অজুহাতে সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন। নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পাসে সরকারের বারবার ব্যর্থতা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। এর ফলে সামরিক সেবা এড়িয়ে চলার দায়ে অনেক যুবক আটক হওয়ায় ইউটিজে ও শাস দলের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে। ইসরাইলের গাজায় গণহত্যা এবং লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে যুদ্ধের জন্য কয়েক লাখ রিজার্ভ সেনাকে দায়িত্বে নেওয়া হলেও অতি-রক্ষণশীল পুরুষদের ঐতিহাসিকভাবে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে ছাড় পেয়ে আসছেন। এর ফলে তারা ইয়েশিভায় পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। তবে যুদ্ধের কারণে এই অব্যাহতি বন্ধের চাপ আরো বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বেসামরিক জীবনে ফিরতে চাওয়া দশ হাজারেরও বেশি সাবেক সেনাসদস্য ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রিজার্ভ সেনাদের বাড়িতে অস্ত্র রাখার প্রবণতা এবং প্রকাশ্য স্থানে অ্যাসল্ট রাইফেল বহন করা দেশটিতে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিদেশি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ কমিয়ে দিলে বা আঞ্চলিক দেশগুলো সম্পর্ক ছিন্ন করলে তা গৃহসংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। প্রতিবেদনটিতে ইসরাইলের ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিকের বৈষম্যের বিষয়টি আলাদাভাবে আলোচিত হয়েছে। যদিও ইসরাইলি সুপ্রিম কোর্ট ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছে, তবুও সম্প্রতি একজন ফিলিস্তিনি রাজনীতিক আদালতের অযোগ্য ঘোষণার ইঙ্গিতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আরেকটি কারণ হতে পারে আঞ্চলিক সরকারগুলো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার বা বিদ্যমান সম্পর্ক বজায় না রাখার সিদ্ধান্ত নিলে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে ইসরাইল: সিআইএ’র বিশেষ প্রতিবেদনে শঙ্কার চিত্র

আপডেট সময় : ০৪:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা ও নানাবিধ রাজনৈতিক বিভাজনের ফলে ইসরাইল বর্তমানে গৃহযুদ্ধ বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অভ্যন্তরীণ ধসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) একটি বিশেষ ‘বিকল্প বিশ্লেষণ’ প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার ড্রপ সাইট নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিডল ইস্ট আই। ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনটি সংস্থাটির ‘রেড সেল’ নামক একটি বিশেষ ইউনিট তৈরি করেছে, যাদের কাজ হলো প্রচলিত ধারণার বাইরে ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা। ইসরাইলিদের মধ্যে উত্তেজনার কারণে দেশটি অভ্যন্তরীণভাবে ধসে পড়া বা গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনটি এমন একটি নির্বাচনের আগে তৈরি হওয়া চাপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে কোনো চূড়ান্ত ফলাফল নাও দিতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ অক্টোবরের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরাইল চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী এই নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের গরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই অনিশ্চিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। ইসরাইলে জনমত জরিপগুলো বলছে, নেতানিয়াহু কিংবা তার বিরোধী জোট—কোনোটিই পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নাও পেতে পারে।

ইসরাইলি সমাজে বিভাজনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অতি-রক্ষণশীল বা আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান থেকে অব্যাহতি। ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) ও শাস দল দুটি নেতানিয়াহুর প্রধান মিত্র হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে যুদ্ধের কারণে রিজার্ভ সেনার প্রয়োজনীয়তা বাড়লেও অতি-রক্ষণশীল পুরুষরা ধর্মীয় শিক্ষার অজুহাতে সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন। নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পাসে সরকারের বারবার ব্যর্থতা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। এর ফলে সামরিক সেবা এড়িয়ে চলার দায়ে অনেক যুবক আটক হওয়ায় ইউটিজে ও শাস দলের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে। ইসরাইলের গাজায় গণহত্যা এবং লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে যুদ্ধের জন্য কয়েক লাখ রিজার্ভ সেনাকে দায়িত্বে নেওয়া হলেও অতি-রক্ষণশীল পুরুষদের ঐতিহাসিকভাবে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে ছাড় পেয়ে আসছেন। এর ফলে তারা ইয়েশিভায় পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। তবে যুদ্ধের কারণে এই অব্যাহতি বন্ধের চাপ আরো বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বেসামরিক জীবনে ফিরতে চাওয়া দশ হাজারেরও বেশি সাবেক সেনাসদস্য ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রিজার্ভ সেনাদের বাড়িতে অস্ত্র রাখার প্রবণতা এবং প্রকাশ্য স্থানে অ্যাসল্ট রাইফেল বহন করা দেশটিতে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিদেশি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ কমিয়ে দিলে বা আঞ্চলিক দেশগুলো সম্পর্ক ছিন্ন করলে তা গৃহসংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। প্রতিবেদনটিতে ইসরাইলের ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিকের বৈষম্যের বিষয়টি আলাদাভাবে আলোচিত হয়েছে। যদিও ইসরাইলি সুপ্রিম কোর্ট ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছে, তবুও সম্প্রতি একজন ফিলিস্তিনি রাজনীতিক আদালতের অযোগ্য ঘোষণার ইঙ্গিতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আরেকটি কারণ হতে পারে আঞ্চলিক সরকারগুলো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার বা বিদ্যমান সম্পর্ক বজায় না রাখার সিদ্ধান্ত নিলে।