সংবিধান সংশোধন: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতিসহ তিন দফা দাবি উত্থাপন
- আপডেট সময় : ০৯:১২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
জুলাই মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আন্দোলনে অংশ নেয়া যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা এবং ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ সভায় উপস্থিত হয়ে তারা এই তিন দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। সভায় অংশ নেয়া ৬৩ জন জুলাই যোদ্ধার মধ্যে শহীদদের অভিভাবক, ভাই এবং আহত ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের মা-বাবা, ভাই এবং আহত ব্যক্তিসহ বিভিন্ন সংগঠনের ৬৩ জন জুলাইযোদ্ধা অংশ নেন। এই সাংবিধানিক গণভোটটা আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
দাবি ও কমিটির প্রতিশ্রুতি
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ভুক্তভোগীরা বিশেষ করে ‘জুলাই ঘোষণাপত্রটি’ সংবিধানের প্রস্তাবনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, বিপ্লবীদের সাংবিধানিক দায়মুক্তি নিশ্চিত করা এবং তৃতীয়ত, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান অধ্যাদেশের বৈধতা থাকলেও যোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়টি সংবিধানের তফসিলে যুক্ত করা হবে যাতে এটি দীর্ঘস্থায়ী সাংবিধানিক ভিত্তি পায়। পাশাপাশি, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সরকার সব ধরণের সহায়তা দেবে। সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৈঠকে শহীদ পরিবার ও আহতদের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে ‘জুলাই ঘোষণাপত্রটি’ যেন সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ উপযুক্ত জায়গায় ধারণ করা হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা রাখার আগের বিকল্পটি এবার বাতিল করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশের গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে সংবিধানে ‘গণভোট’ বা রেফারেন্ডাম ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। হাই কোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে ‘ডকট্রিন অব একলিপস’ নীতি অনুসরণ করে আগের আইনি কাঠামো বহাল করা হচ্ছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর কোনো পরিবর্তন আনতে হলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে সাংবিধানিক গণভোট সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হবে। তবে অতীতের বিতর্কের কথা মাথায় রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে ‘রাষ্ট্রপতি’র থাকার যে সর্বশেষ বিকল্পটি ছিল, সেটি এবার বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোট ব্যবস্থা বাতিল করা হলেও, হাইকোর্ট তা অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। আইনের ‘ডকট্রিন অব একলিপস’ নীতি অনুযায়ী, আগের আইনি ব্যবস্থা পুনরায় বহাল হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যে সংশোধনীটা আমরা সামনে গ্রহণ করব- সে জায়গায় এমন কিছু আর্টিকেলের পরিবর্তন, সংশোধন সংযোজন আসবে; যেগুলো পরিবর্তনে সংশোধনের পূর্ববর্তী।
আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা
রাজনৈতিক দলগুলোর মতৈক্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে কমিটি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন নিয়ে কাজ এখনও চলমান রয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তাবনাগুলো আরও পরিমার্জিত করা হবে। সবার মূল্যবান মতামতের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করার প্রক্রিয়া চলছে। সভায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মোঃ নূরুল হক এবং সাকিলা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) সহ যেভাবে সনদটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, কমিটি ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
























