ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এল নিনোর প্রভাবে সংকটে পড়া দেশগুলোকে সহায়তায় প্রস্তুত আইএমএফ নোবেল শান্তি পুরস্কার নিজেরই প্রাপ্য: দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরাইল ছাড়ছেন ২০ বৃটিশ কূটনীতিক দিল্লিতে বিরোধীদের বড় বিক্ষোভ, সিইসির পদত্যাগ দাবিতে সরব মমতা ইউএস এম্বাসির অ্যাকসেস প্রোগ্রাম শেষ করলেন সমৃদ্ধি হালদার সব সরকারি সেবা মিলবে এক প্ল্যাটফর্মে, নির্দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার ৯৪ বছরের আইনজীবী ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শর্ত ও বাস্তবতা ৩৪ লাখ শিশুর হাম-রুবেলা টিকাদানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় সহায়তা রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা অনির্দিষ্টকাল বহন সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

এল নিনোর প্রভাবে সংকটে পড়া দেশগুলোকে সহায়তায় প্রস্তুত আইএমএফ

  • আপডেট সময় : ০২:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট এল নিনোর ধাক্কা সামাল দিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তার পরিকল্পনা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও ক্রমবর্ধমান খাদ্যের দাম নিয়ে যে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সংস্থাটি অত্যন্ত তৎপর। বুধবার (৭ অক্টোবর) সিঙ্গাপুরে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন প্রস্তুতির কথা জানান। এতে দুই অঞ্চলেই কৃষি ও ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এল নিনো বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে আইএমএফ প্রস্তুত হচ্ছে।

প্রকৃতির বৈশ্বিক এই জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে জর্জিয়েভা বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এল নিনোর যে প্রভাব দেখা দিচ্ছে, তা আধুনিক সময়ের অন্যতম তীব্র একটি সংকট হতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ, চাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। মধ্য আমেরিকার খরা পরিস্থিতি এবং এশিয়ার দেশগুলোতে বর্ষার অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষিখাত ও ফসল উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এর প্রভাব দেখা যায়। অন্যদিকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের ধরন ব্যাহত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে আইএমএফ প্রধান দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিটি রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। পরিস্থিতি উত্তরণে অনেক দেশকে হয়তো বাইরের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হবে। প্রতিকূল সময়ে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সুরক্ষা প্রদান করা আইএমএফের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র, বাংলাদেশের মতো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল এবং লাওসের মতো দরিদ্র দেশগুলো এই জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে ‘দ্বৈত বাহ্যিক ধাক্কা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, একদিকে এল নিনোর কারণে সৃষ্ট জলবায়ুগত বিপর্যয়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলছে। কিছু দেশ হয়তো এই চরম পরিস্থিতির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারবে, তবে অধিকাংশের পক্ষেই তা এককভাবে মোকাবিলা করা অসম্ভব। এহেন সংকট কাটাতে তাই সমন্বিত ও শক্তিশালী বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি দৃঢ় মত ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এল নিনোর প্রভাবে সংকটে পড়া দেশগুলোকে সহায়তায় প্রস্তুত আইএমএফ

আপডেট সময় : ০২:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট এল নিনোর ধাক্কা সামাল দিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তার পরিকল্পনা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও ক্রমবর্ধমান খাদ্যের দাম নিয়ে যে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সংস্থাটি অত্যন্ত তৎপর। বুধবার (৭ অক্টোবর) সিঙ্গাপুরে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন প্রস্তুতির কথা জানান। এতে দুই অঞ্চলেই কৃষি ও ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এল নিনো বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে আইএমএফ প্রস্তুত হচ্ছে।

প্রকৃতির বৈশ্বিক এই জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে জর্জিয়েভা বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এল নিনোর যে প্রভাব দেখা দিচ্ছে, তা আধুনিক সময়ের অন্যতম তীব্র একটি সংকট হতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ, চাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। মধ্য আমেরিকার খরা পরিস্থিতি এবং এশিয়ার দেশগুলোতে বর্ষার অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষিখাত ও ফসল উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এর প্রভাব দেখা যায়। অন্যদিকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের ধরন ব্যাহত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে আইএমএফ প্রধান দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিটি রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। পরিস্থিতি উত্তরণে অনেক দেশকে হয়তো বাইরের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হবে। প্রতিকূল সময়ে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সুরক্ষা প্রদান করা আইএমএফের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র, বাংলাদেশের মতো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল এবং লাওসের মতো দরিদ্র দেশগুলো এই জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে ‘দ্বৈত বাহ্যিক ধাক্কা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, একদিকে এল নিনোর কারণে সৃষ্ট জলবায়ুগত বিপর্যয়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলছে। কিছু দেশ হয়তো এই চরম পরিস্থিতির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারবে, তবে অধিকাংশের পক্ষেই তা এককভাবে মোকাবিলা করা অসম্ভব। এহেন সংকট কাটাতে তাই সমন্বিত ও শক্তিশালী বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি দৃঢ় মত ব্যক্ত করেন।