ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জম্মু-কাশ্মীরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় জিয়াউল আহসানের ভার্চ্যুয়াল শুনানির প্রস্তাব বিদায়ের পথে মৌসুমি বায়ু, বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা অব্যাহত এল নিনোর প্রভাবে সংকটে পড়া দেশগুলোকে সহায়তায় প্রস্তুত আইএমএফ নোবেল শান্তি পুরস্কার নিজেরই প্রাপ্য: দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরাইল ছাড়ছেন ২০ বৃটিশ কূটনীতিক দিল্লিতে বিরোধীদের বড় বিক্ষোভ, সিইসির পদত্যাগ দাবিতে সরব মমতা ইউএস এম্বাসির অ্যাকসেস প্রোগ্রাম শেষ করলেন সমৃদ্ধি হালদার সব সরকারি সেবা মিলবে এক প্ল্যাটফর্মে, নির্দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার ৯৪ বছরের আইনজীবী

জম্মু-কাশ্মীরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া

  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে বসবাসরত কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কথিত অবৈধ নাগরিকদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩০০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ভারত সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে দুটি ভিন্ন দলে ভাগ করে বিএসএফের জিম্মায় দেওয়া হয়, যারা বর্তমানে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জম্মু ও কাশ্মীরের জম্মু অঞ্চল এবং কাশ্মীর উপত্যকায় ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গত মে মাসে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে জানিয়েছিল যে, অঞ্চলটিতে প্রায় ৬০০ জন বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘ সময় ধরে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি বৈধ কোনো নথিপত্র বা ভিসা ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছেন। জম্মু ও কাশ্মীরে বসবাসকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভারত ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষর না করায় দেশটিতে রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিক কোনো শরণার্থী মর্যাদা নেই। এই একই আইনি কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ২০১৭ সালেও অনেক রোহিঙ্গাকে আটক করে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। একই নীতির আওতায় ২০১৭ সালেও ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে কয়েকজন রোহিঙ্গাকে আটক ও ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এবং তাদের সমর্থক গোষ্ঠীর দাবি, অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতির ফলে স্থানীয় সম্পদ ও অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তারা অভিযোগ করছেন, এর ফলে বিশেষ করে জম্মু অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দাদের জীবিকার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে। প্রশাসন আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, পরিচয়পত্রহীন এই ব্যক্তিরা স্থানীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হতে পারেন। বিশেষ করে জম্মু অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি বেশি।

তবে সরকারি এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকরা। সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হারুন রেশি আন্তর্জাতিক আইনের ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতিটির ওপর আলোকপাত করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই এমন ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব অভিবাসী চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছেন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক মানবিক সেবা থেকেও তারা বঞ্চিত।

মানবাধিকারকর্মীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যদিও ভারত শরণার্থী বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদের স্বাক্ষরকারী নয়, তবুও দেশটির সুপ্রিম কোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে বিদেশি নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে, নিরাপত্তা ও জীবিকার যুক্তিতে গৃহীত এই গণ-প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আইন ও মানবাধিকারের নিরিখে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জম্মু-কাশ্মীরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া

আপডেট সময় : ০৪:১৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে বসবাসরত কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কথিত অবৈধ নাগরিকদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩০০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ভারত সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে দুটি ভিন্ন দলে ভাগ করে বিএসএফের জিম্মায় দেওয়া হয়, যারা বর্তমানে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জম্মু ও কাশ্মীরের জম্মু অঞ্চল এবং কাশ্মীর উপত্যকায় ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গত মে মাসে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে জানিয়েছিল যে, অঞ্চলটিতে প্রায় ৬০০ জন বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘ সময় ধরে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি বৈধ কোনো নথিপত্র বা ভিসা ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছেন। জম্মু ও কাশ্মীরে বসবাসকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভারত ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষর না করায় দেশটিতে রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিক কোনো শরণার্থী মর্যাদা নেই। এই একই আইনি কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ২০১৭ সালেও অনেক রোহিঙ্গাকে আটক করে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। একই নীতির আওতায় ২০১৭ সালেও ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে কয়েকজন রোহিঙ্গাকে আটক ও ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এবং তাদের সমর্থক গোষ্ঠীর দাবি, অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতির ফলে স্থানীয় সম্পদ ও অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তারা অভিযোগ করছেন, এর ফলে বিশেষ করে জম্মু অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দাদের জীবিকার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে। প্রশাসন আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, পরিচয়পত্রহীন এই ব্যক্তিরা স্থানীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হতে পারেন। বিশেষ করে জম্মু অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি বেশি।

তবে সরকারি এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকরা। সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হারুন রেশি আন্তর্জাতিক আইনের ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতিটির ওপর আলোকপাত করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই এমন ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব অভিবাসী চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছেন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক মানবিক সেবা থেকেও তারা বঞ্চিত।

মানবাধিকারকর্মীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যদিও ভারত শরণার্থী বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদের স্বাক্ষরকারী নয়, তবুও দেশটির সুপ্রিম কোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে বিদেশি নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে, নিরাপত্তা ও জীবিকার যুক্তিতে গৃহীত এই গণ-প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আইন ও মানবাধিকারের নিরিখে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।