ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ: পুলিশের বাধা ভেঙে আটক সিজেপি নেতারা

  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে বাধা দিয়ে দিল্লির যন্তর-মন্তর এলাকা থেকে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ব্যারিকেড ভেঙে কর্মীরা যন্তর-মন্তরে প্রবেশ করলে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। আটককৃতদের মধ্যে সংগঠনের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস এবং সংগঠক আজিঙ্কা শিন্ডে রয়েছেন। এ সময় তাঁদের আটক করে হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ।

বিক্ষোভের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জাতীয় পতাকা হাতে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসসহ সংগঠনের কর্মীরা ফটক টপকে ভেতরে ঢুকছেন। এ সময় তারা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিয়ে তাদের অবস্থান জানান দেন। মূলত গত রবিবার থেকেই যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কর্তৃপক্ষ।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের আপত্তিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এই আন্দোলন জোরালো হচ্ছে। বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও দিল্লির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, ভারতে সাধারণ মানুষ যেকোনো বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ বা খোলামেলা আলোচনার অধিকার রাখেন।

এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সিজেপি এবং বিরোধী দলগুলো ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিকভাবে যন্তর-মন্তরকে বিক্ষোভের জন্য একটি বৈধ জায়গা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কর্তৃপক্ষ যে বিকল্প বিক্ষোভস্থল হিসেবে রামলীলা ময়দানকে নির্ধারণ করেছে, তা আন্দোলনের জন্য উপযুক্ত নয় বলেও তারা আদালতে যুক্তি তুলে ধরেছেন।

নতুন করে নির্ধারিত তিনটি বিক্ষোভস্থলের মধ্যে দুটি ময়লার স্তূপের কাছে অবস্থিত হওয়ায় এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারীরা। তাদের মতে, এসব স্থানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাবেশ করা কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করতে এবং বৃহত্তর পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে সম্প্রতি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতা, সংসদ সদস্য, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের পরবর্তী কৌশলের বিষয়ে কথা বলেন। নাগরিক সমাজ ও ছাত্র সংগঠনগুলোকে যুক্ত করে আন্দোলনের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ: পুলিশের বাধা ভেঙে আটক সিজেপি নেতারা

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে বাধা দিয়ে দিল্লির যন্তর-মন্তর এলাকা থেকে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ব্যারিকেড ভেঙে কর্মীরা যন্তর-মন্তরে প্রবেশ করলে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। আটককৃতদের মধ্যে সংগঠনের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস এবং সংগঠক আজিঙ্কা শিন্ডে রয়েছেন। এ সময় তাঁদের আটক করে হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ।

বিক্ষোভের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জাতীয় পতাকা হাতে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসসহ সংগঠনের কর্মীরা ফটক টপকে ভেতরে ঢুকছেন। এ সময় তারা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিয়ে তাদের অবস্থান জানান দেন। মূলত গত রবিবার থেকেই যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কর্তৃপক্ষ।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের আপত্তিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এই আন্দোলন জোরালো হচ্ছে। বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও দিল্লির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, ভারতে সাধারণ মানুষ যেকোনো বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ বা খোলামেলা আলোচনার অধিকার রাখেন।

এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সিজেপি এবং বিরোধী দলগুলো ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিকভাবে যন্তর-মন্তরকে বিক্ষোভের জন্য একটি বৈধ জায়গা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কর্তৃপক্ষ যে বিকল্প বিক্ষোভস্থল হিসেবে রামলীলা ময়দানকে নির্ধারণ করেছে, তা আন্দোলনের জন্য উপযুক্ত নয় বলেও তারা আদালতে যুক্তি তুলে ধরেছেন।

নতুন করে নির্ধারিত তিনটি বিক্ষোভস্থলের মধ্যে দুটি ময়লার স্তূপের কাছে অবস্থিত হওয়ায় এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারীরা। তাদের মতে, এসব স্থানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাবেশ করা কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করতে এবং বৃহত্তর পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে সম্প্রতি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতা, সংসদ সদস্য, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের পরবর্তী কৌশলের বিষয়ে কথা বলেন। নাগরিক সমাজ ও ছাত্র সংগঠনগুলোকে যুক্ত করে আন্দোলনের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে।