ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আইএমএফের ঋণ পেতে পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট শর্ত: অর্থমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ০১:২১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাঙ্ক্ষিত সহায়তার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত প্রতিপালন আবশ্যক বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংস্থাটির সঙ্গে নতুন প্রস্তাবিত তহবিল কর্মসূচি ঘিরে আলোচনা চলছে। নীতিগত বিভিন্ন ইস্যুতে সমঝোতার মাধ্যমে এই যৌথ সহায়তা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও শর্ত নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি

১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সংলাপে বসেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, আইএমএফের সঙ্গে সরকারের নতুন ঋণ কর্মসূচির দরকষাকষি বেশ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত ধাপে কোন নীতি-শর্ত যুক্ত হবে এবং তা বাস্তবায়নে কী রূপরেখা নেওয়া হবে, সেসব বিষয়ে সামনের দিনগুলোতে আরও বিস্তারিত বোঝাপড়া সম্পন্ন হবে। তবে এই কর্মসূচির আওতায় ঠিক কী ধরনের শর্ত থাকবে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের কৌশল কী হবে, তা নিয়ে আগামীতে আরও বিশদ আলোচনা হবে। উভয় পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আর্থিক খাত সংস্কারে অভিন্ন পর্যবেক্ষণ

ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর-জিডিপি অনুপাত শক্তিশালী করা, ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য জোরদারে আইএমএফ যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে, সেগুলোতে সরকারের নীতিগত কোনো ভিন্নমত নেই। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা বিচারে যেসব মৌলিক বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে, তার অনেকগুলো ইতোমধ্যেই সরকার বাস্তবায়ন করেছে এবং অবশিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাত ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির বিষয়ে যে পর্যবেক্ষণগুলো এসেছে, তাতে নীতিগত কোনো মতবিরোধ নেই।

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মাঝেও প্রবৃদ্ধির প্রশংসা

মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিরতা ও বৈশ্বিক নানা অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়া ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় থাকাকে সাধুবাদ জানিয়েছে আইএমএফ। অর্থমন্ত্রী জানান, সংস্থাটি বাজেট-পরবর্তী উন্নয়ন গতিধারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও গতিশীল করতে আইএমএফের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকসহ সকল বহুপাক্ষিক সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আইএমএফের ঋণ পেতে পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট শর্ত: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:২১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাঙ্ক্ষিত সহায়তার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত প্রতিপালন আবশ্যক বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংস্থাটির সঙ্গে নতুন প্রস্তাবিত তহবিল কর্মসূচি ঘিরে আলোচনা চলছে। নীতিগত বিভিন্ন ইস্যুতে সমঝোতার মাধ্যমে এই যৌথ সহায়তা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও শর্ত নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি

১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সংলাপে বসেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, আইএমএফের সঙ্গে সরকারের নতুন ঋণ কর্মসূচির দরকষাকষি বেশ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত ধাপে কোন নীতি-শর্ত যুক্ত হবে এবং তা বাস্তবায়নে কী রূপরেখা নেওয়া হবে, সেসব বিষয়ে সামনের দিনগুলোতে আরও বিস্তারিত বোঝাপড়া সম্পন্ন হবে। তবে এই কর্মসূচির আওতায় ঠিক কী ধরনের শর্ত থাকবে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের কৌশল কী হবে, তা নিয়ে আগামীতে আরও বিশদ আলোচনা হবে। উভয় পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আর্থিক খাত সংস্কারে অভিন্ন পর্যবেক্ষণ

ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর-জিডিপি অনুপাত শক্তিশালী করা, ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য জোরদারে আইএমএফ যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে, সেগুলোতে সরকারের নীতিগত কোনো ভিন্নমত নেই। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা বিচারে যেসব মৌলিক বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে, তার অনেকগুলো ইতোমধ্যেই সরকার বাস্তবায়ন করেছে এবং অবশিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাত ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির বিষয়ে যে পর্যবেক্ষণগুলো এসেছে, তাতে নীতিগত কোনো মতবিরোধ নেই।

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মাঝেও প্রবৃদ্ধির প্রশংসা

মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিরতা ও বৈশ্বিক নানা অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়া ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় থাকাকে সাধুবাদ জানিয়েছে আইএমএফ। অর্থমন্ত্রী জানান, সংস্থাটি বাজেট-পরবর্তী উন্নয়ন গতিধারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও গতিশীল করতে আইএমএফের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকসহ সকল বহুপাক্ষিক সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।