শাহজালালে ৪ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক আটক
- আপডেট সময় : ০৬:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে আসা অভিজিৎ দাস (৪০) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে টিজি-৩২১ ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় পৌঁছালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) তাঁকে আটক করে। তাঁর ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করে কাপড় দিয়ে বিশেষভাবে লুকানো ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত অভিজিৎ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনার বাসিন্দা এবং নিজেকে পেশায় কুলির পরিচয় দিয়েছেন। এ সময় ব্যাংকক থেকে আসা থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটের যাত্রী অভিজিৎ দাসকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। উদ্ধার করা মাদক কাপড়ের নিচে ট্রাভেল ট্রলির মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ডিএনসির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে বনগাঁ রেলওয়ে স্টেশনের একজন সাধারণ কুলি বলে পরিচয় দিয়েছেন। এ ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের চলাচল, সন্দেহজনক পণ্য পরিবহন এবং সীমান্তপথে যাতায়াতের ওপর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের একটি দল বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে আগে থেকেই তৎপর ছিল। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে ভারতীয় পাসপোর্টও জব্দ করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিজিৎ বাংলাদেশে মাত্র দুই থেকে তিন দিন অবস্থান করার পরিকল্পনা করেছিলেন। মাদকের চালানটি হস্তান্তরের পর বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তাঁর ভারতে ফেরার কথা ছিল। তবে মাদক গ্রহণকারী বা এই চক্রের বাকি সদস্যদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক একটি মাদক চোরাচালানকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে যারা ভারতের নিম্ন আয়ের মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহার করছে। চক্রটি প্রথমে ওই ব্যক্তিদের কলকাতা থেকে ব্যাংককে নিয়ে যায় এবং বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে, বিশেষ করে ভারতীয় শাড়ির ভাজে মাদক লুকিয়ে বাংলাদেশে পাঠায়। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, বাংলাদেশে কুশের নতুন কোনো বাজার তৈরির লক্ষ্যেই এই চালানটি পাঠানো হয়েছিল।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অভিজিৎ দাসের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিমানবন্দর ব্যবহার করে মাদক পাচারের এই ঘটনাটি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। চক্রের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

























