ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা: রাষ্ট্রপতি বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী তাজমিন মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজারে মামলা দায়ের তরুণদের বিক্ষোভে কি নড়বড়ে হচ্ছে মোদির রাজনৈতিক ভাবমূর্তি? সৌদিতে বিমানবন্দর বন্ধ: ঢাকা থেকে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল রাষ্ট্রসংস্কার প্রক্রিয়া ক্ষমতার রাজনীতিতে জিম্মি: টিআইবি সৌদি ফ্লাইট সংকট: কর্মস্থলে ফিরতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রবাসী কর্মীরা দিল্লিতে ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন তরুণ ভোটাররা দিল্লিতে ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির আগে আটক অভিজিৎ দীপকে

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা: রাষ্ট্রপতি

  • আপডেট সময় : ১০:২৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেশে ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশের সব হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘শারদীয় দুর্গোৎসব’ উপলক্ষে এক বাণীতে এই শুভেচ্ছা জানান।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সরকারি উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, সরকার দেশের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ন্যায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়গুলোর পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়নে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম জোরদার এবং কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের নির্মল আকাশ, শুভ্র কাশফুল আর উৎসবের আমেজে দেবী দুর্গার আগমন ভক্তদের হৃদয়ে নতুন আশা ও কল্যাণের প্রত্যয় জাগায়। দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়।

ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় উৎসবমুখর পরিবেশে নানান আয়োজনের মাধ্যমে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। দুর্গাপূজা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এর সঙ্গে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এ উৎসবে সমাজের সব স্তরের মানুষ সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং মানুষে-মানুষে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। রাষ্ট্রপতি কামনা করেন যেন শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য-সুন্দরের আলোকে ভাস্বর হয়ে ওঠে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হয়।

নিরাপত্তা ও মানবকল্যাণ

  • রাষ্ট্রপতি দেশের সকল ধর্মীয় সম্প্রদায় যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্ভয়ে, স্বাধীন, নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
  • তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ বা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তার নিশ্চয়তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং আমাদের সবার।
  • প্রতিটি ধর্মই সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। তাই যার যার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
  • শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সমাজের অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

পরিশেষে রাষ্ট্রপতি বাণীতে জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব যেন হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে। সব ভেদাভেদ ভুলে মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে—এটিই তাঁর একান্ত প্রত্যাশা। এছাড়া তিনি দেশে ও বিদেশে গৃহীত শারদীয় দুর্গোৎসবের সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ১০:২৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেশে ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশের সব হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘শারদীয় দুর্গোৎসব’ উপলক্ষে এক বাণীতে এই শুভেচ্ছা জানান।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সরকারি উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, সরকার দেশের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ন্যায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়গুলোর পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়নে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম জোরদার এবং কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের নির্মল আকাশ, শুভ্র কাশফুল আর উৎসবের আমেজে দেবী দুর্গার আগমন ভক্তদের হৃদয়ে নতুন আশা ও কল্যাণের প্রত্যয় জাগায়। দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়।

ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় উৎসবমুখর পরিবেশে নানান আয়োজনের মাধ্যমে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। দুর্গাপূজা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এর সঙ্গে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এ উৎসবে সমাজের সব স্তরের মানুষ সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং মানুষে-মানুষে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। রাষ্ট্রপতি কামনা করেন যেন শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য-সুন্দরের আলোকে ভাস্বর হয়ে ওঠে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হয়।

নিরাপত্তা ও মানবকল্যাণ

  • রাষ্ট্রপতি দেশের সকল ধর্মীয় সম্প্রদায় যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্ভয়ে, স্বাধীন, নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
  • তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ বা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তার নিশ্চয়তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং আমাদের সবার।
  • প্রতিটি ধর্মই সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। তাই যার যার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
  • শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সমাজের অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

পরিশেষে রাষ্ট্রপতি বাণীতে জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব যেন হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে। সব ভেদাভেদ ভুলে মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে—এটিই তাঁর একান্ত প্রত্যাশা। এছাড়া তিনি দেশে ও বিদেশে গৃহীত শারদীয় দুর্গোৎসবের সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।