দুই বছরে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গড়বে ইউজিসি
- আপডেট সময় : ০৬:১২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকায় আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল রূপান্তর’ শীর্ষক পরামর্শক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। আয়োজনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে উচ্চগতির ইন্টারনেট, ওয়াই-ফাই এবং প্রয়োজনীয় আইটি অবকাঠামোর আওতায় আনা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে ভর্তি, ফি প্রদান, হলের সিট বরাদ্দ এবং চূড়ান্ত সনদ সংগ্রহের মতো সব ধরনের সেবা অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসার কাজ চলমান রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হবে না।
কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং বাস্তব কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব গ্র্যাজুয়েটের জন্য ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ড. মামুন আহমেদ জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের চাহিদার তথ্য জানাবে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা করপোরেট সংস্থাগুলো তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেবে। ইউজিসি উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষ শিক্ষকের সংকট নিরসনেও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত বিষয়ে যোগ্য শিক্ষকের ঘাটতি থাকলে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাসে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসে অবস্থানরত মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাকেও উচ্চশিক্ষায় কাজে লাগানোর প্রক্রিয়া চলছে।
প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিতে একটি সমন্বিত সফটওয়্যার ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এর মাধ্যমে উপাচার্যরা খুব সহজেই বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম ও অগ্রগতির ওপর নজর রাখতে পারবেন। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে সফটওয়্যার তৈরি করে অর্থ ও সময়ের অপচয় না করে বিদ্যমান ব্যবস্থার সমন্বয় করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পূর্ণাঙ্গ রূপান্তরের জন্য হার্ডওয়্যার, নেটওয়ার্ক এবং ক্লাউড স্টোরেজের উন্নয়নকে তিনি অত্যাবশ্যকীয় বলে উল্লেখ করেন।

























