ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পাবনায় মাদ্রাসায় অপ্রীতিকর ঘটনা, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি শিক্ষক আটক

  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ‘নূরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসা’য় এক আবাসিক ছাত্রীকে নির্যাতনের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোর রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিককে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষক ইউসুফ বহুতল ভবন ভাড়া নিয়ে এই মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। মাদ্রাসায় আবাসিক ব্যবস্থা থাকায় তিনি তার স্ত্রীসহ সেখানেই অবস্থান করতেন। তিনি দীর্ঘ ৫ বছরের বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় বহুতল ভবন ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা করছিলেন। আটক শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিক পার্শ্ববর্তী সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী বাড়িতে চলে যাওয়ায় রাতে তিনি একাই ছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের এক আবাসিক ছাত্রী টয়লেটে যাওয়ার জন্য রুম থেকে বের হলে শিক্ষক ইউসুফ তার হাত ধরে টেনে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

ঘটনার পর স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ওই মাদ্রাসায় ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং একপর্যায়ে সেখানে অগ্নিসংযোগ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতেও নারী সংক্রান্ত একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ ছিল। বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিরোধের মুখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিককে হেফাজতে নেন। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা বিবেচনায় মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে রাতেই উত্তেজিত এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা মাদ্রাসায় জড়ো হন। এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে পুরো এলাকাটি প্রশাসনের কড়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাবনায় মাদ্রাসায় অপ্রীতিকর ঘটনা, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি শিক্ষক আটক

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ‘নূরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসা’য় এক আবাসিক ছাত্রীকে নির্যাতনের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোর রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিককে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষক ইউসুফ বহুতল ভবন ভাড়া নিয়ে এই মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। মাদ্রাসায় আবাসিক ব্যবস্থা থাকায় তিনি তার স্ত্রীসহ সেখানেই অবস্থান করতেন। তিনি দীর্ঘ ৫ বছরের বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় বহুতল ভবন ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা করছিলেন। আটক শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিক পার্শ্ববর্তী সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী বাড়িতে চলে যাওয়ায় রাতে তিনি একাই ছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের এক আবাসিক ছাত্রী টয়লেটে যাওয়ার জন্য রুম থেকে বের হলে শিক্ষক ইউসুফ তার হাত ধরে টেনে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

ঘটনার পর স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ওই মাদ্রাসায় ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং একপর্যায়ে সেখানে অগ্নিসংযোগ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতেও নারী সংক্রান্ত একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ ছিল। বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিরোধের মুখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিককে হেফাজতে নেন। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা বিবেচনায় মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে রাতেই উত্তেজিত এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা মাদ্রাসায় জড়ো হন। এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে পুরো এলাকাটি প্রশাসনের কড়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।