কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতি: ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা
- আপডেট সময় : ০১:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ায় পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থা (সিবিএসএ)। সংস্থাটির তদন্তে উঠে এসেছে যে, একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা অভিবাসন নীতিমালা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলমকে গত ২২ অক্টোবর ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির করা হয়। তালিকার পঞ্চম ব্যক্তি মো. রাকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতির একটি পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফেঁসে গেছেন পাঁচ বাংলাদেশি। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় অভিবাসনসংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান না মানার বেশ কিছু লক্ষণ দেখতে পান তারা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ৩ জুলাই, যখন কুইবেক প্রদেশের মার্সিয়ের এলাকায় একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে সিবিএসএ কর্মকর্তারা অভিযান চালান। স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সহযোগিতায় চালানো এই তল্লাশিতে বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। এরপর আগস্ট মাস থেকে শুরু হওয়া তদন্তে দেখা যায়, ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য কানাডার অস্থায়ী বাসিন্দা ভিসার (টিআরভি) ২৪৩টি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। জালিয়াতি চক্রটি আবেদনকারীদের কানাডার নাগরিকের আতিথ্য গ্রহণের ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে ভিসা পাইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিও প্রদেশের চারটি স্থানে চালানো অভিযানে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র ও ডিজিটাল আলামত এই জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করে। বিশেষ করে ৭৯টি আবেদনকে তদন্তকারীরা জালিয়াতির বড় আলামত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ২০২৫ সালের ৩রা জুন সিবিএসএর তদন্তকারীরা কুইবেক ও অন্টারিও প্রদেশে চারটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন। এ সময় বাসাটিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টি যাচাই করা হয়। অভিযানে মার্সিয়ের পৌরসভার পুলিশ ও দমকল বিভাগের কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের আগস্টে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিবিএসএ। এসব আবেদনের উদ্দেশ্য ছিল, আবেদনকারীরা কানাডার নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেয়া ব্যক্তিদের আতিথ্য গ্রহণ করে দেশটিতে ভ্রমণ করবেন। এ সময় সংগৃহীত নথিপত্র ও কম্পিউটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আলামতে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পাঁচ ব্যক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এসব আবেদনে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে বিবেচনা করা হয়েছিল। আমাদের সীমান্তের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি সিবিএসএর কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কানাডায় অবৈধভাবে প্রবেশে সহায়তা করার ষড়যন্ত্র, অভিবাসন আবেদনে জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা এবং অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন (আইআরপিএ) লঙ্ঘনে প্ররোচনা দেওয়া। কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইনের ১১৭(১), ১১৭(৩), ১২৬ এবং ১২৮(ক) ধারার অধীনে এই অপরাধগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। দেশটির অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইনের (আইআরপিএ) ১১৭(১) উপধারা অনুযায়ী এটি অপরাধ; একই আইনের ১১৭(৩) উপধারায়ও এর শাস্তির বিধান রয়েছে। আইআরপিএর ১২৬ ধারায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ এবং ১২৮(ক) অনুচ্ছেদে এর অপরাধসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। আইনের ১৩১ ধারা এবং ১১৭(৩) উপধারায় এ-সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। তাদের প্রচেষ্টা অভিবাসন কর্মসূচিগুলোর ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
কানাডার জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারী জানিয়েছেন, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা সততা ও আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যারা জালিয়াতির মাধ্যমে এই ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সিবিএসএ-এর কুইবেক অঞ্চলের আঞ্চলিক মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের তদন্তকারী দলের কাজের প্রশংসা করে বলেন, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়া চক্রগুলোকে চিহ্নিত করতে সংস্থাটি বদ্ধপরিকর। অপরাধ তদন্তকারীদের নিরলস প্রচেষ্টার কারণেই এই জালিয়াতি চক্রের কার্যক্রম উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।




















