ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মিষ্টির শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন: ইসি বিএনপি জোটেরই থাকবে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন: ইসি ক্যাশলেস লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহার হবে সম্পূর্ণ ফ্রি শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে রূপপুর প্রকল্পের বাড়তি ইউরেনিয়াম জ্বালানি মেট্রো রেলের দুই লাইন নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকা স্বৈরাচার শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি টঙ্গীর তুরাগ নদে নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর দুই শিশুর

অ্যানথ্রপিকের এআই ‘ক্লড’ ব্যবহার করে অস্ত্র তৈরির চেষ্টা হুথিদের

  • আপডেট সময় : ০২:২০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 15
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অস্ত্র তৈরির একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। উত্তর ইয়েমেনভিত্তিক একটি গোষ্ঠী অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই সিস্টেম ‘ক্লড’ ব্যবহার করে গাইডেড রকেট ও উন্নত মিসাইল তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। গত বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক জানায়, গোষ্ঠীটি তাদের কাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রেখে এই এআই সিস্টেমের সহায়তা নিয়েছে। যদিও প্রতিবেদনে সরাসরি হুথিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে উত্তর ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এআইয়ের অপব্যবহার ও তা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গোষ্ঠীটি তাদের অস্ত্র কর্মসূচিকে অত্যন্ত কৌশলে পরিচালনা করছিল। তারা জটিল প্রকল্পগুলোকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে একাধিক ‘ক্লড’ সেশনে কাজ চালিয়েছে, যাতে কোনো একটি কথোপকথন থেকে পুরো পরিকল্পনার চিত্র ধরা না পড়ে। অস্ত্রগুলোর গাইডেন্স, নেভিগেশন এবং নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার তৈরিতে মানুষের প্রকৌশলীর বদলে ‘ক্লড’-এর জেনারেট করা কোড ব্যবহার করা হয়েছে, যা উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অ্যানথ্রপিকের তথ্য অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি তিনটি ভিন্ন অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছিল। প্রথমটি ছিল একটি গাইডেড রকেট, যাতে ‘ফোন-শ্রেণির ফ্লাইট কম্পিউটার’ এবং শেষ ধাপের হোমিং গাইডেন্স যুক্ত ছিল। দ্বিতীয়টি ছিল দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার একটি বহু-স্তরের ব্যালিস্টিক মিসাইল। তৃতীয়টি ছিল ‘আর২০০০’ নামের একটি মিসাইল কর্মসূচি, যার একটি সংস্করণে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।

অস্ত্র উন্নয়নের বিভিন্ন ধাপে গোষ্ঠীটি এআইয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। সফটওয়্যার কোডিং, গবেষণা, ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ ঠিক করা এবং সিমুলেশন চালানোর প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা ‘ক্লড’ ব্যবহার করেছে। তারা একসঙ্গে একাধিক এআই ইনস্ট্যান্স পরিচালনা করত, যেখানে একটি কোডিং করত, অন্যটি গবেষণা করত এবং তৃতীয়টি আগের কাজগুলো পর্যালোচনা করত। যদিও অ্যানথ্রপিকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাদের অনেক অনুরোধ আটকে দিয়েছিল, তবুও গোষ্ঠীটি কিছু নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করে নেয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গোষ্ঠীটি ইয়েমেনে একটি গাইডেড রকেটের সরাসরি পরীক্ষাও চালিয়েছিল, যা ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা পুনরায় ‘ক্লড’-এর কাছে ফিরে আসে এবং ত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা চালায়। যদিও কোম্পানিটি জানিয়েছে, গোষ্ঠীটি সফলভাবে কোনো কার্যকর অস্ত্র মাঠে নামাতে পেরেছে এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। তবুও ব্যালিস্টিক মিসাইলের সিমুলেশন এবং ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা উন্নত করার মতো কাজে এআইয়ের ব্যবহার অব্যাহত ছিল।

একপর্যায়ে গোষ্ঠীটি একটি অফলাইন সিমুলেশন টুলকিট তৈরি করে, যা ম্যাটল্যাব বা ‘ক্লড’-এর মতো প্রকৌশল সফটওয়্যার ছাড়াই চলতে সক্ষম। এর ফলে তারা এআই প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করে। এই ঘটনাটি এআই অপব্যবহারের ঝুঁকিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। ব্যবহারকারীরা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্দেশ্য গোপন করে এবং জটিল কাজকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে, তবে এআইনির্ভর অস্ত্র উন্নয়ন ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে প্রকাশ পেল যখন সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর জবাবে রিয়াদ পাল্টা বিমান হামলা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে এবং দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে তাদের সংঘাত চলমান। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে গোষ্ঠীটির সঙ্গে জড়িত অ্যাকাউন্টগুলো নিষিদ্ধ করেছে এবং তাদের কার্যক্রমের তথ্য সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে ‘ক্লড’ বা ম্যাটল্যাবের মতো প্রকৌশল সফটওয়্যারের প্রয়োজন হতো না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে সেটিকে একটি স্বতন্ত্র প্রোগ্রামে রূপান্তর করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

অ্যানথ্রপিকের এআই ‘ক্লড’ ব্যবহার করে অস্ত্র তৈরির চেষ্টা হুথিদের

আপডেট সময় : ০২:২০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অস্ত্র তৈরির একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। উত্তর ইয়েমেনভিত্তিক একটি গোষ্ঠী অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই সিস্টেম ‘ক্লড’ ব্যবহার করে গাইডেড রকেট ও উন্নত মিসাইল তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। গত বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক জানায়, গোষ্ঠীটি তাদের কাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রেখে এই এআই সিস্টেমের সহায়তা নিয়েছে। যদিও প্রতিবেদনে সরাসরি হুথিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে উত্তর ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এআইয়ের অপব্যবহার ও তা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গোষ্ঠীটি তাদের অস্ত্র কর্মসূচিকে অত্যন্ত কৌশলে পরিচালনা করছিল। তারা জটিল প্রকল্পগুলোকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে একাধিক ‘ক্লড’ সেশনে কাজ চালিয়েছে, যাতে কোনো একটি কথোপকথন থেকে পুরো পরিকল্পনার চিত্র ধরা না পড়ে। অস্ত্রগুলোর গাইডেন্স, নেভিগেশন এবং নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার তৈরিতে মানুষের প্রকৌশলীর বদলে ‘ক্লড’-এর জেনারেট করা কোড ব্যবহার করা হয়েছে, যা উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অ্যানথ্রপিকের তথ্য অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি তিনটি ভিন্ন অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছিল। প্রথমটি ছিল একটি গাইডেড রকেট, যাতে ‘ফোন-শ্রেণির ফ্লাইট কম্পিউটার’ এবং শেষ ধাপের হোমিং গাইডেন্স যুক্ত ছিল। দ্বিতীয়টি ছিল দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার একটি বহু-স্তরের ব্যালিস্টিক মিসাইল। তৃতীয়টি ছিল ‘আর২০০০’ নামের একটি মিসাইল কর্মসূচি, যার একটি সংস্করণে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।

অস্ত্র উন্নয়নের বিভিন্ন ধাপে গোষ্ঠীটি এআইয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। সফটওয়্যার কোডিং, গবেষণা, ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ ঠিক করা এবং সিমুলেশন চালানোর প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা ‘ক্লড’ ব্যবহার করেছে। তারা একসঙ্গে একাধিক এআই ইনস্ট্যান্স পরিচালনা করত, যেখানে একটি কোডিং করত, অন্যটি গবেষণা করত এবং তৃতীয়টি আগের কাজগুলো পর্যালোচনা করত। যদিও অ্যানথ্রপিকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাদের অনেক অনুরোধ আটকে দিয়েছিল, তবুও গোষ্ঠীটি কিছু নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করে নেয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গোষ্ঠীটি ইয়েমেনে একটি গাইডেড রকেটের সরাসরি পরীক্ষাও চালিয়েছিল, যা ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা পুনরায় ‘ক্লড’-এর কাছে ফিরে আসে এবং ত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা চালায়। যদিও কোম্পানিটি জানিয়েছে, গোষ্ঠীটি সফলভাবে কোনো কার্যকর অস্ত্র মাঠে নামাতে পেরেছে এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। তবুও ব্যালিস্টিক মিসাইলের সিমুলেশন এবং ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা উন্নত করার মতো কাজে এআইয়ের ব্যবহার অব্যাহত ছিল।

একপর্যায়ে গোষ্ঠীটি একটি অফলাইন সিমুলেশন টুলকিট তৈরি করে, যা ম্যাটল্যাব বা ‘ক্লড’-এর মতো প্রকৌশল সফটওয়্যার ছাড়াই চলতে সক্ষম। এর ফলে তারা এআই প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করে। এই ঘটনাটি এআই অপব্যবহারের ঝুঁকিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। ব্যবহারকারীরা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্দেশ্য গোপন করে এবং জটিল কাজকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে, তবে এআইনির্ভর অস্ত্র উন্নয়ন ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে প্রকাশ পেল যখন সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর জবাবে রিয়াদ পাল্টা বিমান হামলা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে এবং দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে তাদের সংঘাত চলমান। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে গোষ্ঠীটির সঙ্গে জড়িত অ্যাকাউন্টগুলো নিষিদ্ধ করেছে এবং তাদের কার্যক্রমের তথ্য সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে ‘ক্লড’ বা ম্যাটল্যাবের মতো প্রকৌশল সফটওয়্যারের প্রয়োজন হতো না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে সেটিকে একটি স্বতন্ত্র প্রোগ্রামে রূপান্তর করা হয়।