ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আওয়ামী দোসরদের আটক করলে পুলিশকে পুরস্কৃত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ১২:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 19
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বাহিনীকে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা ফ্যাসিবাদের এই দোসরদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে, তাদের সরকার বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করবে। গত সপ্তাহে এবং গতকালও ফ্যাসিবাদের বেশ কয়েকজন শক্তিশালী সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির তাগিদ

পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এতদিন যারা আত্মগোপনে ছিল তাদের চিহ্নিত করতে পুলিশের ইন্টেলিজেন্স সাপোর্টকে সবচেয়ে উত্তম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তিনি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের পরামর্শ দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, তারা যেন নিজ নিজ এলাকার গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক আরও জোরদার করেন। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে এমন যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ফ্যাসিবাদের সমালোচনা

জাতিসংঘের হিসাব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এছাড়া বিগত ১৭ বছরের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং হেফাজতে মৃত্যুর ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা আসমান থেকে গুলি করে নাগরিকদের হত্যা করতে পারে এবং দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল, বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনীতিতে ফিরে আসা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। যারা এই বর্বরতার পরেও অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনা করেনি, তারা বর্তমানে বিদেশ থেকে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা এক মাসে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করতে পারে, আসমান থেকে গুলি করে দেশের নাগরিকদের হত্যা করতে পারে, যারা বাংলাদেশের সমস্ত ইনস্টিটিউশনকে দলীয়করণ করে এ দেশকে গণতন্ত্রহীন একটা রাষ্ট্রে পরিণত করতে পেরেছিল।

পলাতক আসামিদের ফেরত আনার উদ্যোগ

শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের কাছে অফিশিয়ালি রিকোয়েস্ট করেছি অ্যাজ পার এক্সট্রাডিশন ট্রিটি যে, আপনারা সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের আমাদের হাতে তুলে দিন। তবে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হন, তবে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।

পদক প্রদান অনুষ্ঠান

  • অনুষ্ঠানে সাহসিকতা ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে পিপিএম (পুলিশ পদক) ও বিপিএম (বাংলাদেশ পুলিশ পদক) পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
  • অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির উপস্থিত ছিলেন।
  • পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়বদ্ধতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আওয়ামী দোসরদের আটক করলে পুলিশকে পুরস্কৃত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বাহিনীকে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা ফ্যাসিবাদের এই দোসরদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে, তাদের সরকার বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করবে। গত সপ্তাহে এবং গতকালও ফ্যাসিবাদের বেশ কয়েকজন শক্তিশালী সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির তাগিদ

পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এতদিন যারা আত্মগোপনে ছিল তাদের চিহ্নিত করতে পুলিশের ইন্টেলিজেন্স সাপোর্টকে সবচেয়ে উত্তম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তিনি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের পরামর্শ দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, তারা যেন নিজ নিজ এলাকার গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক আরও জোরদার করেন। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে এমন যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ফ্যাসিবাদের সমালোচনা

জাতিসংঘের হিসাব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এছাড়া বিগত ১৭ বছরের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং হেফাজতে মৃত্যুর ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা আসমান থেকে গুলি করে নাগরিকদের হত্যা করতে পারে এবং দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল, বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনীতিতে ফিরে আসা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। যারা এই বর্বরতার পরেও অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনা করেনি, তারা বর্তমানে বিদেশ থেকে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা এক মাসে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করতে পারে, আসমান থেকে গুলি করে দেশের নাগরিকদের হত্যা করতে পারে, যারা বাংলাদেশের সমস্ত ইনস্টিটিউশনকে দলীয়করণ করে এ দেশকে গণতন্ত্রহীন একটা রাষ্ট্রে পরিণত করতে পেরেছিল।

পলাতক আসামিদের ফেরত আনার উদ্যোগ

শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের কাছে অফিশিয়ালি রিকোয়েস্ট করেছি অ্যাজ পার এক্সট্রাডিশন ট্রিটি যে, আপনারা সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের আমাদের হাতে তুলে দিন। তবে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হন, তবে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।

পদক প্রদান অনুষ্ঠান

  • অনুষ্ঠানে সাহসিকতা ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে পিপিএম (পুলিশ পদক) ও বিপিএম (বাংলাদেশ পুলিশ পদক) পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
  • অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির উপস্থিত ছিলেন।
  • পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়বদ্ধতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।