ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আইনজীবীর বিতণ্ডা, এজলাস ত্যাগ

  • আপডেট সময় : ১২:৪২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 32
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এজলাস ত্যাগ করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে বিতণ্ডার এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি ও অন্য চার বিচারপতি এজলাস থেকে উঠে চলে যান, যার ফলে দিনের বাকি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার সূত্রপাত হয় সকালে একটি মামলার আদেশকে কেন্দ্র করে। তথ্য গোপন ও আদালতের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে রিট আবেদনকারী মোহাম্মদ নুর আলম এবং তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন আপিল বিভাগ। এই অর্থ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক জানান, যাত্রাবাড়ী থানার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে ২০১৬ সাল থেকে একাধিক রিট আবেদন করা হয়। একই বিষয়ে বারবার রিট দায়ের এবং আগের মামলার তথ্য গোপন করার বিষয়টি টানা তিন দিনের শুনানিতে উঠে আসে। জরিমানার সময় সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আদালতের আদেশ মেনে নিয়েছিলেন। তবে দুপুরে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে এসে ওই নারী আইনজীবীর জরিমানা মওকুফের জন্য মৌখিক আবেদন জানান। তিনি যুক্তি দেন যে, জুনিয়র আইনজীবীর ওপর ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনেক বেশি।

এ সময় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আদালত সব কিছু যাচাই-বাছাই করেই আদেশ দিয়েছে এবং তা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এই আলোচনার এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’ বার সভাপতির এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটি আদালত অবমাননার শামিল। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যেহেতু এত বড় কথা বলেছেন, আজকে আমি আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবো না।’ এরপরই বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।

ঘটনার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধান বিচারপতি বিচারিক শৃঙ্খলা ও সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় ব্যারিস্টার খোকন যে মন্তব্য করেছেন তা অপ্রত্যাশিত। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, মামলার বাদী একই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে পাঁচটি রিট দায়ের করেছিলেন, অথচ আগের রিট খারিজের তথ্য গোপন করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সকালে যখন আদেশ দেওয়া হয়, তখন ব্যারিস্টার খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, তবে নারী আইনজীবী সুফিয়া আহামেদ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন যে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার কোনো তর্ক হয়নি। তিনি বলেন, আপিল বিভাগে বেঞ্চের সংখ্যা কমে যাওয়ায় মামলা শুনানি কম হচ্ছে এবং আইনজীবীদের আয় কমেছে—তিনি মূলত সেই বিষয়টিই বোঝাতে চেয়েছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখন একটি বেঞ্চে মামলা শুনানি হওয়ায় হাজার হাজার মামলা জমে আছে। নিজের একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ তিন মাসের সাজা হতে পারে এমন একটি মামলা এক বছর ধরে আপিল বিভাগে স্থগিত রয়েছে এবং চারবার চেম্বার জজের কাছে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেও তা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আপিল বিভাগের কার্যক্রমে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা হয়েছে। ফলে এজলাসের ভেতরের ঘটনাপ্রবাহ দুই পক্ষের আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করেই জানা গেছে। গতকালের এই ঘটনা আদালত অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে সিনিয়র আইনজীবীরাও এমন পরিস্থিতির কথা স্মরণ করতে পারছেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে আপিলকারী ও আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা (খরচা আরোপ) করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনা ঘিরে গতকাল নানা আলোচনা ছিল আদালত অঙ্গনে। চাকরির আরও তথ্য: আপিল আবেদনের বিষয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক বলেন, ২০১৩ সালে অস্থায়ী কাজী নিয়োগকে কেন্দ্র করে এ মামলার সূত্রপাত। চাকরির আরও তথ্য: নূর আলম ২০১৬ সালে রিট আবেদন করেন, রিট পিটিশন নম্বর ১৪৮২১। চাকরির আরও তথ্য: সেখানে অস্থায়ী নিয়োগ স্থায়ী করার আবেদন করা হয় এবং স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির নিয়োগ বাতিল চাওয়া হয়। চাকরির আরও তথ্য: এরপর ২০১৮ সালে ১৬০৮৮ নম্বর রিট আবেদন করা হয়। চাকরির আরও তথ্য: আগের মামলাগুলোর তথ্য গোপন করে ২০২১ সালে ১১৪৪৬ নম্বর এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালে ৯৬৩১ নম্বর রিট আবেদন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আইনজীবীর বিতণ্ডা, এজলাস ত্যাগ

আপডেট সময় : ১২:৪২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এজলাস ত্যাগ করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে বিতণ্ডার এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি ও অন্য চার বিচারপতি এজলাস থেকে উঠে চলে যান, যার ফলে দিনের বাকি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার সূত্রপাত হয় সকালে একটি মামলার আদেশকে কেন্দ্র করে। তথ্য গোপন ও আদালতের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে রিট আবেদনকারী মোহাম্মদ নুর আলম এবং তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন আপিল বিভাগ। এই অর্থ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক জানান, যাত্রাবাড়ী থানার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে ২০১৬ সাল থেকে একাধিক রিট আবেদন করা হয়। একই বিষয়ে বারবার রিট দায়ের এবং আগের মামলার তথ্য গোপন করার বিষয়টি টানা তিন দিনের শুনানিতে উঠে আসে। জরিমানার সময় সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আদালতের আদেশ মেনে নিয়েছিলেন। তবে দুপুরে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে এসে ওই নারী আইনজীবীর জরিমানা মওকুফের জন্য মৌখিক আবেদন জানান। তিনি যুক্তি দেন যে, জুনিয়র আইনজীবীর ওপর ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনেক বেশি।

এ সময় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আদালত সব কিছু যাচাই-বাছাই করেই আদেশ দিয়েছে এবং তা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এই আলোচনার এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’ বার সভাপতির এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটি আদালত অবমাননার শামিল। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যেহেতু এত বড় কথা বলেছেন, আজকে আমি আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবো না।’ এরপরই বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।

ঘটনার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধান বিচারপতি বিচারিক শৃঙ্খলা ও সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় ব্যারিস্টার খোকন যে মন্তব্য করেছেন তা অপ্রত্যাশিত। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, মামলার বাদী একই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে পাঁচটি রিট দায়ের করেছিলেন, অথচ আগের রিট খারিজের তথ্য গোপন করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সকালে যখন আদেশ দেওয়া হয়, তখন ব্যারিস্টার খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, তবে নারী আইনজীবী সুফিয়া আহামেদ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন যে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার কোনো তর্ক হয়নি। তিনি বলেন, আপিল বিভাগে বেঞ্চের সংখ্যা কমে যাওয়ায় মামলা শুনানি কম হচ্ছে এবং আইনজীবীদের আয় কমেছে—তিনি মূলত সেই বিষয়টিই বোঝাতে চেয়েছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখন একটি বেঞ্চে মামলা শুনানি হওয়ায় হাজার হাজার মামলা জমে আছে। নিজের একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ তিন মাসের সাজা হতে পারে এমন একটি মামলা এক বছর ধরে আপিল বিভাগে স্থগিত রয়েছে এবং চারবার চেম্বার জজের কাছে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেও তা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আপিল বিভাগের কার্যক্রমে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা হয়েছে। ফলে এজলাসের ভেতরের ঘটনাপ্রবাহ দুই পক্ষের আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করেই জানা গেছে। গতকালের এই ঘটনা আদালত অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে সিনিয়র আইনজীবীরাও এমন পরিস্থিতির কথা স্মরণ করতে পারছেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে আপিলকারী ও আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা (খরচা আরোপ) করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনা ঘিরে গতকাল নানা আলোচনা ছিল আদালত অঙ্গনে। চাকরির আরও তথ্য: আপিল আবেদনের বিষয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক বলেন, ২০১৩ সালে অস্থায়ী কাজী নিয়োগকে কেন্দ্র করে এ মামলার সূত্রপাত। চাকরির আরও তথ্য: নূর আলম ২০১৬ সালে রিট আবেদন করেন, রিট পিটিশন নম্বর ১৪৮২১। চাকরির আরও তথ্য: সেখানে অস্থায়ী নিয়োগ স্থায়ী করার আবেদন করা হয় এবং স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির নিয়োগ বাতিল চাওয়া হয়। চাকরির আরও তথ্য: এরপর ২০১৮ সালে ১৬০৮৮ নম্বর রিট আবেদন করা হয়। চাকরির আরও তথ্য: আগের মামলাগুলোর তথ্য গোপন করে ২০২১ সালে ১১৪৪৬ নম্বর এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালে ৯৬৩১ নম্বর রিট আবেদন করা হয়।