ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষতি বিচার বিভাগে বেশি: আইনমন্ত্রী সৌদি রুটে ফ্লাইট বাতিলের সময় বাড়াল ইতিহাদ ও ফ্লাইদুবাই সোনাদিয়া সমুদ্রবন্দর না হওয়ায় বড় কৌশলগত সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ অর্থমন্ত্রী -: বিগত সরকারের আমলে জিডিপি’র হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে ইসরাইলি নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে লিকুদ পার্টি প্রকৃত সফলতার পথে মুমিনের জীবনযাপনের ৮টি মৌলিক গুণ নাশকতা ও আতঙ্ক ছড়াতে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ: ডিএমপি ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় ৩৩ জনের প্রাণহানি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠিত শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে: আইনমন্ত্রী

আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষতি বিচার বিভাগে বেশি: আইনমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতি যতটা ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে এ মন্তব্য করেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এবং ইউএনডিপির সহযোগিতায় বাংলাদেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের অংশগ্রহণে ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

বিচারিক সততা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবক্ষয়

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একজন বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার অর্থই হলো সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সততা রক্ষা করা। ফলে বিচারকের নামের আগে আলাদা করে ‘সৎ জজ’ বলা কিছুটা অতিরঞ্জিত। কারণ একজন বিচারক মানেই তিনি সৎ হবেন—এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। তিনি আরও বলেন, দেশের বিচার বিভাগে যে শুদ্ধাচার সংকট তৈরি হয়েছে, তা অনেকেই কেবল আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করছেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি দেখছেন বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।

অভিযোগের বিষয়ে জিরো টলারেন্স

মন্ত্রী জানান, হাতে গোনা কয়েকজন বিচারক হয়তো আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিষয়ে সরকার এবং প্রধান বিচারপতি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, অধস্তন বিচার বিভাগের প্রতিটি বিচারক মেধার স্বাক্ষর রেখে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে মেধাবী ব্যক্তিদেরই বিচারক পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং তারা সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন।

টিআইবির প্রতি আহ্বান ও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা

টিআইবির উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে যারা পক্ষপাতদুষ্ট, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং যারা দেশের সুপ্রিম কোর্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, তাদের শনাক্ত করা উচিত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আফসোস প্রকাশ করে বলেন, সমাজে ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে। জুলাই মাসে বহু মানুষ নিহত ও পঙ্গুত্ববরণ করলেও দেশের বুদ্ধিজীবীদের একটি বড় অংশ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাই বিচার বিভাগের শুদ্ধাচার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির বিষয়টিও সামনে আনা প্রয়োজন।

স্বাধীন বিচার বিভাগ ও সংবিধান সংশোধন

বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা আনয়ন করা হবে এবং ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলেছে। এমন একটি বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে নিরপেক্ষভাবে ন্যায়বিচার মিলবে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে সমস্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জনগণের কাছে বিচারিক প্রক্রিয়ার এই সততা ও নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান হলেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

  • সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে টিআইবির কাছে লিখিত পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছে।
  • আগামী ১০ দিনের মধ্যে মৌলিক ও জনকল্যাণমুখী প্রস্তাব জমা দিলে তা পর্যালোচনা সভায় আলোচনা করা হবে।
  • অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সিনিয়র অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার উপস্থিত ছিলেন।
  • টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষতি বিচার বিভাগে বেশি: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৫:৩২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতি যতটা ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে এ মন্তব্য করেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এবং ইউএনডিপির সহযোগিতায় বাংলাদেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের অংশগ্রহণে ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

বিচারিক সততা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবক্ষয়

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একজন বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার অর্থই হলো সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সততা রক্ষা করা। ফলে বিচারকের নামের আগে আলাদা করে ‘সৎ জজ’ বলা কিছুটা অতিরঞ্জিত। কারণ একজন বিচারক মানেই তিনি সৎ হবেন—এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। তিনি আরও বলেন, দেশের বিচার বিভাগে যে শুদ্ধাচার সংকট তৈরি হয়েছে, তা অনেকেই কেবল আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করছেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি দেখছেন বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।

অভিযোগের বিষয়ে জিরো টলারেন্স

মন্ত্রী জানান, হাতে গোনা কয়েকজন বিচারক হয়তো আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিষয়ে সরকার এবং প্রধান বিচারপতি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, অধস্তন বিচার বিভাগের প্রতিটি বিচারক মেধার স্বাক্ষর রেখে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে মেধাবী ব্যক্তিদেরই বিচারক পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং তারা সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন।

টিআইবির প্রতি আহ্বান ও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা

টিআইবির উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে যারা পক্ষপাতদুষ্ট, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং যারা দেশের সুপ্রিম কোর্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, তাদের শনাক্ত করা উচিত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আফসোস প্রকাশ করে বলেন, সমাজে ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে। জুলাই মাসে বহু মানুষ নিহত ও পঙ্গুত্ববরণ করলেও দেশের বুদ্ধিজীবীদের একটি বড় অংশ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাই বিচার বিভাগের শুদ্ধাচার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির বিষয়টিও সামনে আনা প্রয়োজন।

স্বাধীন বিচার বিভাগ ও সংবিধান সংশোধন

বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা আনয়ন করা হবে এবং ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলেছে। এমন একটি বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে নিরপেক্ষভাবে ন্যায়বিচার মিলবে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে সমস্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জনগণের কাছে বিচারিক প্রক্রিয়ার এই সততা ও নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান হলেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

  • সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে টিআইবির কাছে লিখিত পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছে।
  • আগামী ১০ দিনের মধ্যে মৌলিক ও জনকল্যাণমুখী প্রস্তাব জমা দিলে তা পর্যালোচনা সভায় আলোচনা করা হবে।
  • অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সিনিয়র অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার উপস্থিত ছিলেন।
  • টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।