ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইশরাক: পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল শেরপুরের শ্রীবরদীতে উদ্ধার অজ্ঞাত নারীর পরিচয় শনাক্তে তৎপর পুলিশ স্পিকার: সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা এমপি-মন্ত্রী হন দুবাই ভ্রমণে এমিরেটসের বোনাস মাইল পাওয়ার বিশেষ অফার ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে বিদেশি নেতাদের মন্তব্যকে ‘নির্বোধ’ বললেন মাক্রোঁ মানিকগঞ্জে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত দুই কক্সবাজারে সৈকতে গোসলে নেমে চার পর্যটকের প্রাণহানি নির্বাচন পরবর্তী ইরানে সামরিক হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল দেশের বাজারে কমল সোনার দাম, নতুন দর কার্যকর সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী: সারাদিনের সফরসূচি

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: সাত বিমানবন্দর বন্ধ, ভোগান্তিতে আড়াই লক্ষাধিক যাত্রী

  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 17
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ফলে দেশটির আকাশপথ ও বিমান চলাচল ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া এই অগ্ন্যুৎপাত শনিবার ও রোববার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাইয়ের মেঘ প্রায় ১৫ হাজার মিটার উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বিমান চলাচলের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে এই ছাই প্রবেশ করলে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে, তাই সতর্কতা হিসেবে কর্তৃপক্ষ সাতটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত অথবা অন্য রুটে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে এয়ারলাইনগুলো। এতে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। জাকার্তার প্রধান সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সেমারাং, সুরাবায়া ও যোগ্যাকার্তাসহ কয়েকটি বিমানবন্দরকে বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কিছুটা কমানো যায়। এয়ারলাইনগুলো যাত্রীদের নিয়মিত ফ্লাইট আপডেট চেক করে বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দিয়েছে।

আগ্নেয় ছাইয়ের বিস্তার জাকার্তা ও লাম্পুংয়ের জনজীবনকেও প্রভাবিত করেছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং উক্ত এলাকাগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে অনলাইনে স্থানান্তর করা হয়েছে। জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরির আশপাশের জলসীমায় নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সার্বক্ষণিকভাবে আনাক ক্রাকাতোয়ার অগ্নুৎপাত ও ভূ-তাত্ত্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বিমান চলাচল ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থায় আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। রয়টার্স ও আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: সাত বিমানবন্দর বন্ধ, ভোগান্তিতে আড়াই লক্ষাধিক যাত্রী

আপডেট সময় : ০৬:২৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ফলে দেশটির আকাশপথ ও বিমান চলাচল ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া এই অগ্ন্যুৎপাত শনিবার ও রোববার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাইয়ের মেঘ প্রায় ১৫ হাজার মিটার উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বিমান চলাচলের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে এই ছাই প্রবেশ করলে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে, তাই সতর্কতা হিসেবে কর্তৃপক্ষ সাতটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত অথবা অন্য রুটে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে এয়ারলাইনগুলো। এতে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। জাকার্তার প্রধান সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সেমারাং, সুরাবায়া ও যোগ্যাকার্তাসহ কয়েকটি বিমানবন্দরকে বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কিছুটা কমানো যায়। এয়ারলাইনগুলো যাত্রীদের নিয়মিত ফ্লাইট আপডেট চেক করে বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দিয়েছে।

আগ্নেয় ছাইয়ের বিস্তার জাকার্তা ও লাম্পুংয়ের জনজীবনকেও প্রভাবিত করেছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং উক্ত এলাকাগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে অনলাইনে স্থানান্তর করা হয়েছে। জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরির আশপাশের জলসীমায় নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সার্বক্ষণিকভাবে আনাক ক্রাকাতোয়ার অগ্নুৎপাত ও ভূ-তাত্ত্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বিমান চলাচল ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থায় আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। রয়টার্স ও আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।