ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শর্ত ও বাস্তবতা ৩৪ লাখ শিশুর হাম-রুবেলা টিকাদানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় সহায়তা রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা অনির্দিষ্টকাল বহন সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শর্ত ও বাস্তবতা

  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের সঙ্গে নতুন করে চুক্তিতে পৌঁছাতে ওয়াশিংটন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমানোর শর্ত দিয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে জানান, ইরানকে তাদের বর্তমান সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে এটি নিশ্চিত হয় যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। ভ্যান্স এ সময় প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্য না থাকে, তবে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ জ্বালানির প্রয়োজন কী? উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের চেয়ে কম। ভ্যান্স জানান, তারা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে কঠোর অবস্থানের সুর এখনো প্রবল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে তেহরান নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং দেশটির অর্থনীতি ধসের মুখে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধ ভালো অথবা মন্দ যেকোনো এক পথে শেষ হবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনের প্রস্তাবকে অর্থহীন আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে সরকার পরিবর্তনের পাঁয়তারা করছে। পেজেশকিয়ান বলেন, আলোচনার টেবিলে বসার প্রতিটি সময়ই তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে এবং নিয়মিত নিষেধাজ্ঞা, গুপ্তহত্যা ও সামরিক হুমকি আসার কারণে এমন আলোচনায় বিশ্বাস রাখা কঠিন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে আলোচনা হলে সংঘাতের অবসান সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন কিছুটা নমনীয় হওয়ার আভাস দিলেও তেহরানের কাছে এটিই মূল সংকট নয়। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সাইমন মাবনের মতে, ইরানের মূল দাবি হলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেয়া, জব্দ থাকা অর্থ ফেরত পাওয়া এবং লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসনের স্থায়ী সমাপ্তি। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ অধিবেশনে ইরান ধাপে ধাপে চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা নাকচ করে দেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চাপ থেকেই ওয়াশিংটন সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে ছাড় দেয়ার কৌশল নিচ্ছে। যদিও পানামার পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় ১২ জন নাবিক আহতের ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রণালিটি এখনো নিরাপদ নয়। ফলে পরমাণু কর্মসূচি কমানোর মার্কিন চাপের চেয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও আঞ্চলিক অস্থিরতা বন্ধের বিষয়গুলোই এখন টেকসই চুক্তির ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শর্ত ও বাস্তবতা

আপডেট সময় : ১০:৫৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে নতুন করে চুক্তিতে পৌঁছাতে ওয়াশিংটন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমানোর শর্ত দিয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে জানান, ইরানকে তাদের বর্তমান সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে এটি নিশ্চিত হয় যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। ভ্যান্স এ সময় প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্য না থাকে, তবে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ জ্বালানির প্রয়োজন কী? উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের চেয়ে কম। ভ্যান্স জানান, তারা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে কঠোর অবস্থানের সুর এখনো প্রবল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে তেহরান নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং দেশটির অর্থনীতি ধসের মুখে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধ ভালো অথবা মন্দ যেকোনো এক পথে শেষ হবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনের প্রস্তাবকে অর্থহীন আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে সরকার পরিবর্তনের পাঁয়তারা করছে। পেজেশকিয়ান বলেন, আলোচনার টেবিলে বসার প্রতিটি সময়ই তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে এবং নিয়মিত নিষেধাজ্ঞা, গুপ্তহত্যা ও সামরিক হুমকি আসার কারণে এমন আলোচনায় বিশ্বাস রাখা কঠিন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে আলোচনা হলে সংঘাতের অবসান সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন কিছুটা নমনীয় হওয়ার আভাস দিলেও তেহরানের কাছে এটিই মূল সংকট নয়। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সাইমন মাবনের মতে, ইরানের মূল দাবি হলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেয়া, জব্দ থাকা অর্থ ফেরত পাওয়া এবং লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসনের স্থায়ী সমাপ্তি। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ অধিবেশনে ইরান ধাপে ধাপে চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা নাকচ করে দেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চাপ থেকেই ওয়াশিংটন সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে ছাড় দেয়ার কৌশল নিচ্ছে। যদিও পানামার পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় ১২ জন নাবিক আহতের ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রণালিটি এখনো নিরাপদ নয়। ফলে পরমাণু কর্মসূচি কমানোর মার্কিন চাপের চেয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও আঞ্চলিক অস্থিরতা বন্ধের বিষয়গুলোই এখন টেকসই চুক্তির ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।