ইশরাক: জমি দখল বা চাঁদাবাজি নয়, মাদক নির্মূলে গিয়েছিলাম
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। ১৯ অক্টোবর সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ইশরাক জানান, তার কোনো কার্যক্রমের কারণে যেন সরকারের কর্মকাণ্ড বা দলের ওপর বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সেই বিবেচনায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে সেই সুযোগ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ইশরাক বলেন, কোনো ভুল বা আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি দুঃখিত। তবে তিনি নিজের কাজে ভুল ছিল না বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করেন। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে তার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র সঙ্গে রাখার বিষয়টিও তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন। মূলত মাদকবিরোধী অভিযানের মূল উদ্দেশ্যকে আড়াল করতে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন, গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর ও মুন্সিরটেক এলাকার মাদকের আখড়া নির্মূলের লক্ষ্যেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, জমি দখল বা চাঁদাবাজি তার উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকলে, কাউকে আঘাত দিলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। শুধু নিজের নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে রেখেছিলাম।’। তার ভাষ্য, মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে পরিচালিত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দিতে নানা ধরনের বয়ান তৈরি করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার কারণ ব্যাখ্যা করে ইশরাক জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিপুল অর্থ ও অস্ত্র থাকায় স্থানীয়রা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না।
এমনকি এসব এলাকায় মাদকের কারবারিরা ওপর থেকে গুলি চালানোর মতো দুর্ধর্ষ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় পুলিশও অভিযানে যেতে ইতস্তত করে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। গেন্ডারিয়ার ওই এলাকায় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়াবহ চিত্রও তুলে ধরেন তিনি। অভিযানের আগে তিনি স্থানীয় থানাকে এ বিষয়ে অবহিত করেছিলেন বলেও দাবি করেন।
ইশরাক হোসেনের মতে, ওই এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সিন্ডিকেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসাজশ রয়েছে। মাদক নির্মূলে যাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা থাকায় এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে তিনি এই সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এখন পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ইশরাক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনজীবনের সমস্যা সমাধানে তিনি কাজ করে যেতে চান।






















