ইসরাইলের নির্বাচনে রেকর্ড ১৮টি আসন পেতে পারে আরব দলগুলো
- আপডেট সময় : ১০:১৩:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরব দলগুলো সব রেকর্ড ভেঙে ১৮টি আসন পেতে পারে বলে বুথফেরত জরিপের প্রাথমিক তথ্যে আভাস পাওয়া গেছে। ১২০ আসনের নেসেটে জয়েন্ট লিস্ট এবং রা‘ম-এর মতো আরব দলগুলো এমন সাফল্য অর্জনের পথে রয়েছে। এই নির্বাচনে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিকদের অংশগ্রহণের হার গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা ১৯৯৯ সালের পর একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে ভোটার উপস্থিতিও ছিল ৭৭.৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ।
বুথফেরত জরিপের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের বিরোধী জোট এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ৫১টি করে আসন নিয়ে সমতায় রয়েছে। রা‘ম বা ইউনাইটেড আরব লিস্টের নেতা মনসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে নেতানিয়াহু বিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন অর্জন করবে। বর্তমানে নেসেটে রা‘ম দলের পাঁচটি আসন রয়েছে এবং ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তারা জোট সরকারে যুক্ত ছিল। আব্বাস জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ও পরে প্রধান দুটি রাজনৈতিক জোটই তার দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। অন্যদিকে লেখক ও কূটনীতিক অ্যালন পিংকাস মনে করেন, আইজেনকোটের জোটের জন্য সরকার গঠন চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, কারণ তারা নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর সাথে জোট না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আরবদের পাশ কাটিয়ে সরকার গঠন করা প্রায় অসম্ভব। তবে তিনি বলেন, আরবদের বাইরে রাখা সম্ভব নয়।
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার কট্টর ডানপন্থি সহযোগীরা ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের উচ্চ ভোটার হারকে পুঁজি করে সমর্থকদের সতর্ক করতে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির পতাকা লাগানো গাড়ি থেকে আজান বাজিয়ে জনগণকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, কারণ হিসেবে ‘আরবরা ভোট দিচ্ছে’ বলে প্রচার চালানো হয়। নেতানিয়াহু নিজেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আরব ভোটারদের ছবি পোস্ট করে তার সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। আরব রাজনীতিকরা এই কর্মকাণ্ডকে বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
ইসরাইলের এক কোটি জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশই ফিলিস্তিনি নাগরিক। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নুর ওদেহ এই নির্বাচনকে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, অতীতে রাষ্ট্রীয় তহবিল বরাদ্দ ও বৈষম্যমূলক আইনের কারণে ফিলিস্তিনিরা প্রতিকূলতার মুখে পড়তেন। নেসেটে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এমন ১০০টিরও বেশি আইন পাস হয়েছে, যা তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে। মূলত এই পদ্ধতিগত বৈষম্যের জবাব দিতে এবং নিজেদের পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে তারা এবার রেকর্ড সংখ্যক ভোট দিয়েছেন।























