ঢাকা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইসরাইল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেন নেতানিয়াহু, সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা জাপানে তিন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাগুরায় যুবদল নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, জড়িতদের গ্রেপ্তারে অবরোধ হুথিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদির কলকাতায় বিবস্ত্র করে ঘোরানোর পর অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে হাঁটাল পুলিশ নেতানিয়াহু মিথ্যা ও ভয়ের আশ্রয় নিচ্ছেন: অভিযোগ আইজেনকোটের রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে ঘোর বিরোধী ছিলেন সোনিয়া স্থানীয় সরকারের ৬৬ খাতে ২৭ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি খুলনায় ২৪ ঘণ্টায় যুবদল নেতাসহ গুলিবিদ্ধ ৩ নরসিংদীতে জমি নিয়ে বিরোধে যুবক নিহতের ঘটনায় তদন্ত শুরু

ইসরাইল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেন নেতানিয়াহু, সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা

  • আপডেট সময় : ১০:০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোট বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জরিপ অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পুনরাবৃত্তির শঙ্কা বাড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও সমর্থকদের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নির্বাচন পরবর্তী ইসরাইলের ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর জোট ৫০টি আসন পেতে পারে, যেখানে বিরোধী ইহুদি জোটের ঝুলিতে যেতে পারে ৫২টি। চ্যানেল ১২-কে আব্বাস বলেন, শুধু পরিবর্তনপন্থী শিবির নয়, নেতানিয়াহুর সমর্থক শিবির থেকেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বুথফেরত জরিপে দলটি ১০ থেকে ১১টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য আসন বেড়ে ৫২ হয়েছে এবং বিরোধী শিবিরের আসন কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯টিতে। দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য ৬১টি আসন অপরিহার্য।

নির্বাচনে লিকুদ পার্টি ২৪ থেকে ২৫টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দলের অবস্থান ধরে রাখতে পারে, যদিও বর্তমানে তাদের আসনসংখ্যা ৩২। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২১ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে। বিরোধী শিবিরের অপর দল বি’ইয়াচাদ পেতে পারে ১২ থেকে ১৩টি আসন। এছাড়া বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস দলের সম্ভাব্য আসন ৯ থেকে ১০টি। দল দুটি বর্তমানে পার্লামেন্টে মোট ১০টি আসনের অধিকারী। এ ছাড়া জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস ৯ থেকে ১০টি এবং কট্টর ডানপন্থী দল ওতজমা ইয়েহুদিত ৬ থেকে ৭টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সাফল্য বেশ নজর কেড়েছে। জয়েন্ট লিস্ট এবং রা’আম মিলে ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে, যা বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। এই দলগুলো নেতানিয়াহু ও কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। দলের নেতারা আশা করছেন, আগামীতে একটি পরিবর্তনমুখী সরকার গঠিত হবে।

নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় গাণিতিক সমর্থন জোগাড় করা। ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট বর্তমান ফলকে নেতানিয়াহুর প্রতি জনগণের অনাস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তবে বিরোধী জোটের কয়েকটি ইহুদি দলের পক্ষ থেকে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে অনীহা প্রকাশ করা হয়েছে, যা পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট বুথফেরত জরিপের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই ফল নেতানিয়াহু ও ৭ অক্টোবরের হামলার সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থার প্রতিফলন। জনগণের রায় বাস্তবায়ন এবং নেতানিয়াহুর সরকার পরিবর্তনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু ও আইজেনকট—দুজনই প্রেসিডেন্টের কাছে সরকার গঠনের সুযোগ চাইতে পারেন।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস নেতা ইয়ার গোলান সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছেন এবং রা’আমের সঙ্গে জোট গড়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাস জানিয়েছেন, দুই পক্ষ থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা যাচাই না করে তারা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান না। তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফল একই রকম হলে এটি ইসরাইলের দায়িত্বশীল জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠের বিজয় হবে।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের ওপর এখন দায়িত্ব পড়বে এমন কোনো প্রার্থীকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার, যার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। যদি কোনো পক্ষই চূড়ান্তভাবে সক্ষম না হয়, তবে দেশটিতে আবারও নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েল ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারের নির্বাচনে গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৭ শতাংশেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে বুথফেরত জরিপ চূড়ান্ত ফলাফল নয় বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, চূড়ান্ত গণনা শেষে সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরাইল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেন নেতানিয়াহু, সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ১০:০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোট বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জরিপ অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পুনরাবৃত্তির শঙ্কা বাড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও সমর্থকদের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নির্বাচন পরবর্তী ইসরাইলের ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর জোট ৫০টি আসন পেতে পারে, যেখানে বিরোধী ইহুদি জোটের ঝুলিতে যেতে পারে ৫২টি। চ্যানেল ১২-কে আব্বাস বলেন, শুধু পরিবর্তনপন্থী শিবির নয়, নেতানিয়াহুর সমর্থক শিবির থেকেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বুথফেরত জরিপে দলটি ১০ থেকে ১১টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য আসন বেড়ে ৫২ হয়েছে এবং বিরোধী শিবিরের আসন কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯টিতে। দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য ৬১টি আসন অপরিহার্য।

নির্বাচনে লিকুদ পার্টি ২৪ থেকে ২৫টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দলের অবস্থান ধরে রাখতে পারে, যদিও বর্তমানে তাদের আসনসংখ্যা ৩২। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২১ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে। বিরোধী শিবিরের অপর দল বি’ইয়াচাদ পেতে পারে ১২ থেকে ১৩টি আসন। এছাড়া বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস দলের সম্ভাব্য আসন ৯ থেকে ১০টি। দল দুটি বর্তমানে পার্লামেন্টে মোট ১০টি আসনের অধিকারী। এ ছাড়া জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস ৯ থেকে ১০টি এবং কট্টর ডানপন্থী দল ওতজমা ইয়েহুদিত ৬ থেকে ৭টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সাফল্য বেশ নজর কেড়েছে। জয়েন্ট লিস্ট এবং রা’আম মিলে ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে, যা বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। এই দলগুলো নেতানিয়াহু ও কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। দলের নেতারা আশা করছেন, আগামীতে একটি পরিবর্তনমুখী সরকার গঠিত হবে।

নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় গাণিতিক সমর্থন জোগাড় করা। ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট বর্তমান ফলকে নেতানিয়াহুর প্রতি জনগণের অনাস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তবে বিরোধী জোটের কয়েকটি ইহুদি দলের পক্ষ থেকে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে অনীহা প্রকাশ করা হয়েছে, যা পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট বুথফেরত জরিপের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই ফল নেতানিয়াহু ও ৭ অক্টোবরের হামলার সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থার প্রতিফলন। জনগণের রায় বাস্তবায়ন এবং নেতানিয়াহুর সরকার পরিবর্তনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু ও আইজেনকট—দুজনই প্রেসিডেন্টের কাছে সরকার গঠনের সুযোগ চাইতে পারেন।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস নেতা ইয়ার গোলান সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছেন এবং রা’আমের সঙ্গে জোট গড়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাস জানিয়েছেন, দুই পক্ষ থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা যাচাই না করে তারা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান না। তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফল একই রকম হলে এটি ইসরাইলের দায়িত্বশীল জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠের বিজয় হবে।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের ওপর এখন দায়িত্ব পড়বে এমন কোনো প্রার্থীকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার, যার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। যদি কোনো পক্ষই চূড়ান্তভাবে সক্ষম না হয়, তবে দেশটিতে আবারও নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েল ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারের নির্বাচনে গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৭ শতাংশেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে বুথফেরত জরিপ চূড়ান্ত ফলাফল নয় বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, চূড়ান্ত গণনা শেষে সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।