ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বগুড়ার শেরপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক তরুণ হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে সৌদি ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪টি সামরিক অভিযান মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের ঘটনায় জামায়াত আমিরের প্রতিবাদ শাহজালাল বিমানবন্দরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার: বিমানবন্দর থানায় মামলা মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা ও রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার: নিন্দা ও মুক্তির দাবি জামায়াতের পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতার ১২ লাখ টাকার গরু সম্পদ মুন্সীগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় অভিভাবক গ্রেপ্তার

এআই ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পর্যটন বিকাশের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • আপডেট সময় : ১২:০১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সমন্বয়ে দেশের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে পর্যটন শিল্পের ব্যবস্থাপনা ও সেবা প্রদানের ধরন ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যা ভ্রমণ পরিকল্পনা ও আবাসনের মতো বিষয়গুলোতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গতকাল (শনিবার) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যটন খাতও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। ভ্রমণ পরিকল্পনা, তথ্যপ্রাপ্তি, যাতায়াত ও আবাসনসহ সর্বত্র এর প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে।

এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, যেমন—কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, সিলেটের চা-বাগান, সেন্টমার্টিন, সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি, নীলাচল, কাপ্তাই লেক, জাফলং, ষাট গম্বুজ মসজিদসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক নিদর্শনের কথা তুলে ধরেন। এসব সম্পদ পর্যটন খাতকে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার করে তুলেছে বলে তিনি মত দেন। কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবনের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা-বাগান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, বান্দরবানের সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি, নীলাচল, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, জাফলংয়ের পাহাড়ি ঝরনা, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ পাহাড়। পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে শক্তিশালী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

পর্যটন খাতকে টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্থানকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া, প্রতিটি জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন পর্যটন সুবিধা তৈরির পাশাপাশি জাতীয় নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে। আধুনিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন, ইকো ট্যুরিজম এবং কমিউনিটি ট্যুরিজমের প্রসারেও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলো সফল হলে পর্যটন শিল্পের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন বুকিং এবং এআই-ভিত্তিক তথ্যসেবা পর্যটন গন্তব্যগুলোকে পর্যটকদের কাছে আরও নিরাপদ ও সহজলভ্য করে তুলবে। পরিশেষে তিনি পরিবেশের ভারসাম্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় অঙ্গীকার ব্যক্ত করার আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এআই ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পর্যটন বিকাশের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপডেট সময় : ১২:০১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সমন্বয়ে দেশের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে পর্যটন শিল্পের ব্যবস্থাপনা ও সেবা প্রদানের ধরন ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যা ভ্রমণ পরিকল্পনা ও আবাসনের মতো বিষয়গুলোতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গতকাল (শনিবার) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যটন খাতও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। ভ্রমণ পরিকল্পনা, তথ্যপ্রাপ্তি, যাতায়াত ও আবাসনসহ সর্বত্র এর প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে।

এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, যেমন—কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, সিলেটের চা-বাগান, সেন্টমার্টিন, সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি, নীলাচল, কাপ্তাই লেক, জাফলং, ষাট গম্বুজ মসজিদসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক নিদর্শনের কথা তুলে ধরেন। এসব সম্পদ পর্যটন খাতকে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার করে তুলেছে বলে তিনি মত দেন। কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবনের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা-বাগান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, বান্দরবানের সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি, নীলাচল, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, জাফলংয়ের পাহাড়ি ঝরনা, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ পাহাড়। পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে শক্তিশালী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

পর্যটন খাতকে টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্থানকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া, প্রতিটি জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন পর্যটন সুবিধা তৈরির পাশাপাশি জাতীয় নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে। আধুনিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন, ইকো ট্যুরিজম এবং কমিউনিটি ট্যুরিজমের প্রসারেও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলো সফল হলে পর্যটন শিল্পের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন বুকিং এবং এআই-ভিত্তিক তথ্যসেবা পর্যটন গন্তব্যগুলোকে পর্যটকদের কাছে আরও নিরাপদ ও সহজলভ্য করে তুলবে। পরিশেষে তিনি পরিবেশের ভারসাম্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় অঙ্গীকার ব্যক্ত করার আহ্বান জানান।