ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি ডিএমপির

  • আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 16
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীতে নিয়মিত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তুলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া। শুক্রবার বিকেলে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে তিনি কথা বলেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তোফায়েল আহমেদ বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তার ভাষ্যমতে, এমন বিস্ফোরক মন্তব্য কেন করা হয়েছে তা যাচাই করা জরুরি। তবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে জানান, এটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা হয়তো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।’।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, তাদের তিনটি দাবি—আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার—সরকার মানছে না। তার মতে, এই দাবিগুলো পূরণ হলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না। রাজনৈতিক মহলে তার এই মন্তব্যের পর তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠেছিল।

এদিকে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা বেড়েছে। সেই ঘটনার তদন্তে যাত্রাবাড়ী ও শ্যামপুর থানা পুলিশ সমন্বিত অভিযান চালিয়ে জাহিদ হাসান ইমন নামে একজনকে শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর থেকে গ্রেপ্তার করে।

ইমনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নাশকতার সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দেড় কেজি কস্টিক সোডা, এক কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, পাঁচ কেজি মারবেল, দুই কেজি তারকাঁটা, এবং ককটেল তৈরির কাজে ব্যবহৃত ২০টি লাল ও ১১টি কালো কসটেপ। এছাড়াও একটি ব্লেন্ডার ও জার উদ্ধার করা হয়েছে, যা উপাদান গুঁড়ো করতে ব্যবহৃত হতো। পুলিশ জানায়, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত দেড় কেজি কস্টিক সোডা, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল, ২ কেজি ১ ইঞ্চি তারকাঁটা, ককটেল মোড়ানোর জন্য ব্যবহৃত ২০টি লাল কসটেপ ও ১১টি কালো কসটেপ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা সরঞ্জামের তালিকায় আরও রয়েছে ৯ হাজার কাগজের তৈরি মুখোশ এবং তা পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন পুলিশকে জানিয়েছেন, লালবাগের এক রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সহায়তায় এই মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়েছিল। এসব মালামাল পরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিতরণের জন্য রাখা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশ উদ্ধারের বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তার বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ইমনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও লালবাগ থানায় ইতিমধ্যে দুটি মামলা রয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার বিস্ফোরণের সঙ্গে ইমনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলায় তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের সঙ্গে এই নাশকতার সরাসরি যোগসূত্র থাকার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে নেই বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি ডিএমপির

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে নিয়মিত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তুলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া। শুক্রবার বিকেলে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে তিনি কথা বলেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তোফায়েল আহমেদ বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তার ভাষ্যমতে, এমন বিস্ফোরক মন্তব্য কেন করা হয়েছে তা যাচাই করা জরুরি। তবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে জানান, এটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা হয়তো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।’।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, তাদের তিনটি দাবি—আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার—সরকার মানছে না। তার মতে, এই দাবিগুলো পূরণ হলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না। রাজনৈতিক মহলে তার এই মন্তব্যের পর তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠেছিল।

এদিকে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা বেড়েছে। সেই ঘটনার তদন্তে যাত্রাবাড়ী ও শ্যামপুর থানা পুলিশ সমন্বিত অভিযান চালিয়ে জাহিদ হাসান ইমন নামে একজনকে শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর থেকে গ্রেপ্তার করে।

ইমনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নাশকতার সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দেড় কেজি কস্টিক সোডা, এক কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, পাঁচ কেজি মারবেল, দুই কেজি তারকাঁটা, এবং ককটেল তৈরির কাজে ব্যবহৃত ২০টি লাল ও ১১টি কালো কসটেপ। এছাড়াও একটি ব্লেন্ডার ও জার উদ্ধার করা হয়েছে, যা উপাদান গুঁড়ো করতে ব্যবহৃত হতো। পুলিশ জানায়, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত দেড় কেজি কস্টিক সোডা, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল, ২ কেজি ১ ইঞ্চি তারকাঁটা, ককটেল মোড়ানোর জন্য ব্যবহৃত ২০টি লাল কসটেপ ও ১১টি কালো কসটেপ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা সরঞ্জামের তালিকায় আরও রয়েছে ৯ হাজার কাগজের তৈরি মুখোশ এবং তা পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন পুলিশকে জানিয়েছেন, লালবাগের এক রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সহায়তায় এই মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়েছিল। এসব মালামাল পরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিতরণের জন্য রাখা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশ উদ্ধারের বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তার বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ইমনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও লালবাগ থানায় ইতিমধ্যে দুটি মামলা রয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার বিস্ফোরণের সঙ্গে ইমনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলায় তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের সঙ্গে এই নাশকতার সরাসরি যোগসূত্র থাকার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে নেই বলে জানা গেছে।