ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

কলকাতায় বিবস্ত্র করে ঘোরানোর পর অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে হাঁটাল পুলিশ

  • আপডেট সময় : ১১:১৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 4
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কলকাতার বেহালা এলাকার সরশুনা অঞ্চলে কিশোরীকে চুম্বনের জেরে তিন ব্যক্তিকে নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটানোর ঘটনার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার রাত আটটার দিকে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ তার ১৯ বছর বয়সী বন্ধুকে নিয়ে ১৩ বছরের ওই কিশোরীর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় তরুণটি কিশোরীকে চুম্বন করলে তা পরিবারের নজরে আসে। এরপর নাবালিকার আত্মীয় ও পরিবারের লোকজন ওই তরুণ ও তার বন্ধুকে আটক করে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি ডাক পড়ে তরুণের বাবারও। মারধরের ভয় দেখিয়ে এবং গুলি করার হুমকি দিয়ে তিনজনকে বাড়ির সামনে ব্যস্ত রাস্তায় নগ্ন অবস্থায় প্রায় ৫০ মিটার হাঁটতে বাধ্য করা হয়। প্রেমিকাকে চুম্বনের শাস্তি হিসেবে গত রোববার রাত ৮টা নাগাদ কলকাতার বেহালার সরশুনা এলাকায় প্রেমিকসহ তিন জনকে প্রকাশ্যে রাস্তায় বিবস্ত্র অবস্থায় হাঁটিয়েছে কিশোরীর পরিবার। সঙ্গে ছিল তার ১৯ বছর বয়সি এক বন্ধুও। তা দেখে ফেলেন নাবালিকার মামার বন্ধু। পরে ডাকা হয় প্রেমিক তরুণের বাবাকেও। এমনটি না করলে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে।

এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দারা মেয়েটির বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তরুণের বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে কিশোরীর বাবা প্রদীপ সরকার, মামা রাহুল বর্মন, মা রিঙ্কু সরকার ও প্রতিবেশী শঙ্কর সাউকে গ্রেপ্তার করে। অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে তোলা হলে রিমান্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরপরই পুলিশ অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটিয়ে থানায় নিয়ে যায়। এই দুটি ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নেটমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বাকি অভিযুক্তদেরও খুঁজছে পুলিশ। এরপরেই একই জায়গায় অভিযুক্ত তিন জনকে খালি গায়ে, কোমরে দড়ি পরিয়ে হাঁটায় পুলিশ।

মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর সাধারণ সম্পাদক আলতাফ আহমেদ এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পুলিশ সময়মতো উপস্থিত হলে এই অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হতো না। আলতাফ আহমেদের ভাষ্যমতে, পুলিশ নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিয়ে অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে দড়ি বেঁধে প্যারেড করিয়েছে, যা অপরাধ দমনের সঠিক পদ্ধতি নয়। তিনি অভিযোগ করেন যে, পুলিশ তাদের মূল দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও পরবর্তী পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে এখন নেটপাড়ায় চলছে জোর বিতর্ক। আর এই দুই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সময়মতো পুলিশ পৌঁছোলে এই ঘটনাটা ঘটত না। তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী এভাবে অপরাধ কমানো যায় না।

নিউজটি শেয়ার করুন

কলকাতায় বিবস্ত্র করে ঘোরানোর পর অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে হাঁটাল পুলিশ

আপডেট সময় : ১১:১৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কলকাতার বেহালা এলাকার সরশুনা অঞ্চলে কিশোরীকে চুম্বনের জেরে তিন ব্যক্তিকে নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটানোর ঘটনার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার রাত আটটার দিকে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ তার ১৯ বছর বয়সী বন্ধুকে নিয়ে ১৩ বছরের ওই কিশোরীর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় তরুণটি কিশোরীকে চুম্বন করলে তা পরিবারের নজরে আসে। এরপর নাবালিকার আত্মীয় ও পরিবারের লোকজন ওই তরুণ ও তার বন্ধুকে আটক করে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি ডাক পড়ে তরুণের বাবারও। মারধরের ভয় দেখিয়ে এবং গুলি করার হুমকি দিয়ে তিনজনকে বাড়ির সামনে ব্যস্ত রাস্তায় নগ্ন অবস্থায় প্রায় ৫০ মিটার হাঁটতে বাধ্য করা হয়। প্রেমিকাকে চুম্বনের শাস্তি হিসেবে গত রোববার রাত ৮টা নাগাদ কলকাতার বেহালার সরশুনা এলাকায় প্রেমিকসহ তিন জনকে প্রকাশ্যে রাস্তায় বিবস্ত্র অবস্থায় হাঁটিয়েছে কিশোরীর পরিবার। সঙ্গে ছিল তার ১৯ বছর বয়সি এক বন্ধুও। তা দেখে ফেলেন নাবালিকার মামার বন্ধু। পরে ডাকা হয় প্রেমিক তরুণের বাবাকেও। এমনটি না করলে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে।

এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দারা মেয়েটির বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তরুণের বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে কিশোরীর বাবা প্রদীপ সরকার, মামা রাহুল বর্মন, মা রিঙ্কু সরকার ও প্রতিবেশী শঙ্কর সাউকে গ্রেপ্তার করে। অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে তোলা হলে রিমান্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরপরই পুলিশ অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটিয়ে থানায় নিয়ে যায়। এই দুটি ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নেটমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বাকি অভিযুক্তদেরও খুঁজছে পুলিশ। এরপরেই একই জায়গায় অভিযুক্ত তিন জনকে খালি গায়ে, কোমরে দড়ি পরিয়ে হাঁটায় পুলিশ।

মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর সাধারণ সম্পাদক আলতাফ আহমেদ এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পুলিশ সময়মতো উপস্থিত হলে এই অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হতো না। আলতাফ আহমেদের ভাষ্যমতে, পুলিশ নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিয়ে অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে দড়ি বেঁধে প্যারেড করিয়েছে, যা অপরাধ দমনের সঠিক পদ্ধতি নয়। তিনি অভিযোগ করেন যে, পুলিশ তাদের মূল দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও পরবর্তী পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে এখন নেটপাড়ায় চলছে জোর বিতর্ক। আর এই দুই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সময়মতো পুলিশ পৌঁছোলে এই ঘটনাটা ঘটত না। তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী এভাবে অপরাধ কমানো যায় না।