ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মিষ্টির শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন: ইসি বিএনপি জোটেরই থাকবে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন: ইসি ক্যাশলেস লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহার হবে সম্পূর্ণ ফ্রি শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে রূপপুর প্রকল্পের বাড়তি ইউরেনিয়াম জ্বালানি মেট্রো রেলের দুই লাইন নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকা স্বৈরাচার শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি টঙ্গীর তুরাগ নদে নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর দুই শিশুর

কানাডীয় বিমান নির্মাতা বোম্বার্ডিয়ারের ওপর মার্কিন বাজারে নিষেধাজ্ঞার হুমকি ট্রাম্পের

  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 20
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কানাডার শীর্ষস্থানীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ারের উড়োজাহাজ মার্কিন বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ট্রাম্পের দাবি, বোম্বার্ডিয়ারের পণ্যগুলো মানসম্মত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বিমান বিক্রি বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যদি কোম্পানিটি মার্কিন বাজারে ব্যবসা চালিয়ে যেতে চায়, তবে তাদের উড়োজাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই উৎপাদন করতে হবে। আমেরিকাকে ‘পিগি ব্যাংক’ বা অর্থ উপার্জনের সহজ উৎস হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে বর্তমানে যে বাণিজ্য উত্তেজনা চলছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তার দ্বিতীয় মেয়াদে গৃহীত নতুন শুল্কনীতির কারণে কানাডাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত বোম্বার্ডিয়ারের জেটগুলোর সরবরাহ বন্ধের বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বোম্বার্ডিয়ারের বিমানগুলো এমন একটি বাণিজ্য চুক্তির অধীনে পরিচালিত হয়, যা ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই কার্যকর হয়েছিল। ফলে বর্তমান হুমকিটি আইনি বা নীতিগতভাবে কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। এয়ারোস্পেস খাতের বিশ্লেষক রিচার্ড আবোলাফিয়া মনে করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গ্রাহক অর্ডার বাতিল করবেন না, কারণ মার্কিন বাজারে বিমান সরবরাহ আটকে দেওয়ার কোনো স্পষ্ট প্রক্রিয়া বা সরকারি নির্দেশনা এখনো নেই।

বোম্বার্ডিয়ারের সঙ্গে মার্কিন অর্থনীতির গভীর যোগসূত্র রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটির প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কর্মী কর্মরত আছেন এবং প্রায় ২ হাজার ৮০০ মার্কিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া দেশটিতে বোম্বার্ডিয়ারের নিজস্ব কারখানা ও একাধিক সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, তারা প্রতি বছর মার্কিন সরবরাহকারীদের পেছনে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করে থাকে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ওপর কোনো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে শুধু কানাডাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চেইন এবং কর্মসংস্থানও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে দুই দেশের চলমান বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বের একটি নতুন ও স্পর্শকাতর অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নির্দেশনা বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি, তবুও ট্রাম্পের এই হুমকি শেষ পর্যন্ত বাস্তব নীতিতে রূপ নেয় কি না, তা নিয়ে এভিয়েশন শিল্পে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কানাডীয় বিমান নির্মাতা বোম্বার্ডিয়ারের ওপর মার্কিন বাজারে নিষেধাজ্ঞার হুমকি ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ১০:৩৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কানাডার শীর্ষস্থানীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ারের উড়োজাহাজ মার্কিন বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ট্রাম্পের দাবি, বোম্বার্ডিয়ারের পণ্যগুলো মানসম্মত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বিমান বিক্রি বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যদি কোম্পানিটি মার্কিন বাজারে ব্যবসা চালিয়ে যেতে চায়, তবে তাদের উড়োজাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই উৎপাদন করতে হবে। আমেরিকাকে ‘পিগি ব্যাংক’ বা অর্থ উপার্জনের সহজ উৎস হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে বর্তমানে যে বাণিজ্য উত্তেজনা চলছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তার দ্বিতীয় মেয়াদে গৃহীত নতুন শুল্কনীতির কারণে কানাডাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত বোম্বার্ডিয়ারের জেটগুলোর সরবরাহ বন্ধের বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বোম্বার্ডিয়ারের বিমানগুলো এমন একটি বাণিজ্য চুক্তির অধীনে পরিচালিত হয়, যা ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই কার্যকর হয়েছিল। ফলে বর্তমান হুমকিটি আইনি বা নীতিগতভাবে কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। এয়ারোস্পেস খাতের বিশ্লেষক রিচার্ড আবোলাফিয়া মনে করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গ্রাহক অর্ডার বাতিল করবেন না, কারণ মার্কিন বাজারে বিমান সরবরাহ আটকে দেওয়ার কোনো স্পষ্ট প্রক্রিয়া বা সরকারি নির্দেশনা এখনো নেই।

বোম্বার্ডিয়ারের সঙ্গে মার্কিন অর্থনীতির গভীর যোগসূত্র রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটির প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কর্মী কর্মরত আছেন এবং প্রায় ২ হাজার ৮০০ মার্কিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া দেশটিতে বোম্বার্ডিয়ারের নিজস্ব কারখানা ও একাধিক সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, তারা প্রতি বছর মার্কিন সরবরাহকারীদের পেছনে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করে থাকে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ওপর কোনো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে শুধু কানাডাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চেইন এবং কর্মসংস্থানও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে দুই দেশের চলমান বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বের একটি নতুন ও স্পর্শকাতর অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নির্দেশনা বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি, তবুও ট্রাম্পের এই হুমকি শেষ পর্যন্ত বাস্তব নীতিতে রূপ নেয় কি না, তা নিয়ে এভিয়েশন শিল্পে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।