ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম: ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা সোমবার থেকে খুলছে স্কুল-মাদরাসা, কলেজে ক্লাস ১ নভেম্বর রিয়াদে ফ্লাইট চালুর পরই বিস্ফোরণ, আকাশজুড়ে নতুন আতঙ্ক ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কমনওয়েলথ বৈঠকে যোগ দেবেন হুমায়ুন কবির ৩৪ দিন পর ক্লাসে ফেরার ঘোষণা চুয়েট শিক্ষার্থীদের ইউরোপজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতায় রাজপথে হাজারো বিক্ষোভকারী ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে রেকর্ড রোগী ভর্তি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৬ নভেম্বর কক্সবাজার বিমানবন্দরের আধুনিক টার্মিনাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম: ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

  • আপডেট সময় : ০৮:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ৬ প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান বাদী হয়ে খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো করেন। শিপইয়ার্ড সড়কের অনিয়ম – দুর্নীতিতে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টিমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একটি মামলায় কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারকে এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিল প্রদানের কথা বলা হয়েছে। অন্য মামলায় ঠিকাদারের অনুকূলে অর্থ ছাড় করে ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা রাজস্ব হিসেবে স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান, মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাহাবুব রহমান, কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ এবং প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন। এছাড়াও নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামানকে মামলার আসামি করা হয়েছে। কেডিএর কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা জানান, শিপইয়ার্ড সড়কের কাজ চলাকালে পুরো বিষয়টি দেখভাল করতেন চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। বিল থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বেশিরভাগই তারা নিতেন। কেডিএর নথি অনুমোদন ও বিল প্রদানের নির্দেশিকায় দেখা গেছে, নিম্নমান সহকারী থেকে প্রধান প্রকৌশলীর পরে বিলের নথিতে সদস্য (প্রকৌশল ), সচিব, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ ) ও চেয়ারম্যান অনুমোদন করেন। এরপর চেয়ারম্যান ও সচিব যৌথভাবে বিলে স্বাক্ষর করেন। প্রকল্প চলাকালে প্রায় ৩ জন সদস্য কেডিএর সদস্য দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পটি দেখাশোনা করেছেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় অরাজনৈতিক ব্যক্তি ও কর্মকর্তারা এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। খুলনা মহানগর নাগরিক ফোরামের কো – চেয়ারম্যান সরদার আবু তাহের বলেন, পুরো বিষয়টি দুঃখজনক।

প্রকল্পের অনিয়মের এই ঘটনায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট ১৪ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে কেডিএর সদস্য এস এম মাহমুদুর রহমান ও মো. ইকবাল হোসেন এবং সাবেক সচিব মো. বদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে এবং বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে প্রকল্প চলাকালীন দায়িত্বরত চেয়ারম্যানদের আসামি না করায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় ঠিকাদার মাহবুবুর রহমান প্রকল্পের প্রকৌশলীদের পাত্তা দিতেন না। কাজে কোনো ভুল হয়েছে, এটা সংশোধন বা চিঠি দিতেও ভয়ে থাকতেন দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা। তাদের নির্দেশে নিচের প্রকৌশলীরা বিল তৈরি করে।

কেডিএ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, প্রকল্প চলাকালে প্রশাসনিক নীতিনির্ধারণ ও বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও সচিবের নির্দেশনাই ছিল চূড়ান্ত। তৎকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনকারী সেনাবাহিনীর দুইজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের কেন মামলার বাইরে রাখা হলো তা নিয়েও আলোচনা চলছে। সংস্থার প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী সমস্ত সিদ্ধান্ত তাঁর নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়।

দুদকের খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে প্রকল্পটির কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ২০১৩ সালের ৭ মে একনেকে অনুমোদিত এই প্রকল্পের ব্যয় শুরুতে ৯৮ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকায়। ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দুদকের অভিযানের পর এই দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। ২০২৪ সালের জুন মাসে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ থাকা ১৩ কোটি টাকার বিল তৈরির নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান ও সচিব। দীর্ঘ ১৩ বছর তারা মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছরেও সড়কটির কাজ শেষ হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম: ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট সময় : ০৮:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ৬ প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান বাদী হয়ে খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো করেন। শিপইয়ার্ড সড়কের অনিয়ম – দুর্নীতিতে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টিমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একটি মামলায় কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারকে এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিল প্রদানের কথা বলা হয়েছে। অন্য মামলায় ঠিকাদারের অনুকূলে অর্থ ছাড় করে ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা রাজস্ব হিসেবে স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান, মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাহাবুব রহমান, কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ এবং প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন। এছাড়াও নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামানকে মামলার আসামি করা হয়েছে। কেডিএর কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা জানান, শিপইয়ার্ড সড়কের কাজ চলাকালে পুরো বিষয়টি দেখভাল করতেন চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। বিল থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বেশিরভাগই তারা নিতেন। কেডিএর নথি অনুমোদন ও বিল প্রদানের নির্দেশিকায় দেখা গেছে, নিম্নমান সহকারী থেকে প্রধান প্রকৌশলীর পরে বিলের নথিতে সদস্য (প্রকৌশল ), সচিব, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ ) ও চেয়ারম্যান অনুমোদন করেন। এরপর চেয়ারম্যান ও সচিব যৌথভাবে বিলে স্বাক্ষর করেন। প্রকল্প চলাকালে প্রায় ৩ জন সদস্য কেডিএর সদস্য দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পটি দেখাশোনা করেছেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় অরাজনৈতিক ব্যক্তি ও কর্মকর্তারা এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। খুলনা মহানগর নাগরিক ফোরামের কো – চেয়ারম্যান সরদার আবু তাহের বলেন, পুরো বিষয়টি দুঃখজনক।

প্রকল্পের অনিয়মের এই ঘটনায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট ১৪ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে কেডিএর সদস্য এস এম মাহমুদুর রহমান ও মো. ইকবাল হোসেন এবং সাবেক সচিব মো. বদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে এবং বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে প্রকল্প চলাকালীন দায়িত্বরত চেয়ারম্যানদের আসামি না করায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় ঠিকাদার মাহবুবুর রহমান প্রকল্পের প্রকৌশলীদের পাত্তা দিতেন না। কাজে কোনো ভুল হয়েছে, এটা সংশোধন বা চিঠি দিতেও ভয়ে থাকতেন দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা। তাদের নির্দেশে নিচের প্রকৌশলীরা বিল তৈরি করে।

কেডিএ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, প্রকল্প চলাকালে প্রশাসনিক নীতিনির্ধারণ ও বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও সচিবের নির্দেশনাই ছিল চূড়ান্ত। তৎকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনকারী সেনাবাহিনীর দুইজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের কেন মামলার বাইরে রাখা হলো তা নিয়েও আলোচনা চলছে। সংস্থার প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী সমস্ত সিদ্ধান্ত তাঁর নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়।

দুদকের খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে প্রকল্পটির কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ২০১৩ সালের ৭ মে একনেকে অনুমোদিত এই প্রকল্পের ব্যয় শুরুতে ৯৮ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকায়। ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দুদকের অভিযানের পর এই দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। ২০২৪ সালের জুন মাসে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ থাকা ১৩ কোটি টাকার বিল তৈরির নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান ও সচিব। দীর্ঘ ১৩ বছর তারা মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছরেও সড়কটির কাজ শেষ হয়নি।