ঢাকা ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মিষ্টির শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন: ইসি বিএনপি জোটেরই থাকবে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন: ইসি ক্যাশলেস লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহার হবে সম্পূর্ণ ফ্রি শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে রূপপুর প্রকল্পের বাড়তি ইউরেনিয়াম জ্বালানি মেট্রো রেলের দুই লাইন নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকা স্বৈরাচার শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি টঙ্গীর তুরাগ নদে নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর দুই শিশুর

গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির বিভেদ ফ্যাসিবাদীদের সুযোগ করে দিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 12
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংকট নিরসনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকে পুনরায় উজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি, বরং দেশকে আমদানিনির্ভর করে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি বাধাগ্রস্ত হয় এবং এলএনজি টার্মিনালের একটি বিকল হওয়ায় সংকট ঘনীভূত হয়। বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমাধান করা যেত, তবে সরকারই সবার আগে তা করত। তিনি জনগণকে উত্তেজিত না করে সংকট সমাধানে সহযোগিতার আহ্বান জানান এবং সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে খেলাপি ঋণের হিসাবে বড় ধরনের জালিয়াতি করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে তারা খেলাপি ঋণ ১১ শতাংশ দেখালেও, বর্তমান সরকারের ফরেনসিক অডিটে তা ৩৫.৫ শতাংশ পাওয়া গেছে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে গত ৫ মাসে তা কমে ৩২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা টানতে বর্তমান সরকার গত ৫ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২ হাজার ৪৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপির অতীত ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই দেশের মানুষ অবাধে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে, তারা বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং দলটি প্রতিবারই দেশকে সংকট থেকে বের করে এনেছে। জিয়াউর রহমানের আমলে দেশকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর এবং খালেদা জিয়ার আমলে নারী শিক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচনের সাফল্যের কথা তিনি তুলে ধরেন।

বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বাকস্বাধীনতা অবারিত থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে। তিনি জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, পারিবারিক পরিবেশে ব্যবহার করা যায় না এমন শব্দ জনপরিসরে পরিহার করা উচিত। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গালাগালি পরিহার করে একটি রুচিশীল সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু তা যেন শত্রুতার রূপ না নেয়।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ মানুষের জীবনদান এবং ৩০ হাজার মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের কথা স্মরণ করে বলেন, সুশাসন ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করা সম্ভব। তিনি সরকারি ও বিরোধী দলের সবাইকে নিয়ে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাক-স্বাধীনতার সীমা যেন শালীনতার সীমা না ছাড়ায় এদিকে খেয়াল রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে আমাদের দু’টি এফএসআরইউ’র (এলএনজি টার্মিনাল) একটি দুর্ঘটনার কারণে সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু দেখলাম লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কিনা, সে প্রশ্নও উঠছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উত্তরাধিকার সূত্রেই এই সংকট পেয়েছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে আমরা বসে নেই, ইতিমধ্যেই অনেকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা শুধু বিদ্যুৎ গ্রাহক নয়, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হওয়ার পরিকল্পনায় এগোচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির বিভেদ ফ্যাসিবাদীদের সুযোগ করে দিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংকট নিরসনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকে পুনরায় উজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি, বরং দেশকে আমদানিনির্ভর করে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি বাধাগ্রস্ত হয় এবং এলএনজি টার্মিনালের একটি বিকল হওয়ায় সংকট ঘনীভূত হয়। বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমাধান করা যেত, তবে সরকারই সবার আগে তা করত। তিনি জনগণকে উত্তেজিত না করে সংকট সমাধানে সহযোগিতার আহ্বান জানান এবং সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে খেলাপি ঋণের হিসাবে বড় ধরনের জালিয়াতি করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে তারা খেলাপি ঋণ ১১ শতাংশ দেখালেও, বর্তমান সরকারের ফরেনসিক অডিটে তা ৩৫.৫ শতাংশ পাওয়া গেছে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে গত ৫ মাসে তা কমে ৩২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা টানতে বর্তমান সরকার গত ৫ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২ হাজার ৪৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপির অতীত ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই দেশের মানুষ অবাধে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে, তারা বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং দলটি প্রতিবারই দেশকে সংকট থেকে বের করে এনেছে। জিয়াউর রহমানের আমলে দেশকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর এবং খালেদা জিয়ার আমলে নারী শিক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচনের সাফল্যের কথা তিনি তুলে ধরেন।

বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বাকস্বাধীনতা অবারিত থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে। তিনি জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, পারিবারিক পরিবেশে ব্যবহার করা যায় না এমন শব্দ জনপরিসরে পরিহার করা উচিত। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গালাগালি পরিহার করে একটি রুচিশীল সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু তা যেন শত্রুতার রূপ না নেয়।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ মানুষের জীবনদান এবং ৩০ হাজার মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের কথা স্মরণ করে বলেন, সুশাসন ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করা সম্ভব। তিনি সরকারি ও বিরোধী দলের সবাইকে নিয়ে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাক-স্বাধীনতার সীমা যেন শালীনতার সীমা না ছাড়ায় এদিকে খেয়াল রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে আমাদের দু’টি এফএসআরইউ’র (এলএনজি টার্মিনাল) একটি দুর্ঘটনার কারণে সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু দেখলাম লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কিনা, সে প্রশ্নও উঠছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উত্তরাধিকার সূত্রেই এই সংকট পেয়েছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে আমরা বসে নেই, ইতিমধ্যেই অনেকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা শুধু বিদ্যুৎ গ্রাহক নয়, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হওয়ার পরিকল্পনায় এগোচ্ছি।