চর বিজয়ে বিরল নীল-সবুজ অম্বর চুটকি পাখির দেখা
- আপডেট সময় : ১০:৫১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা চর বিজয় উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের এক নতুন ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। গত রোববার এই দ্বীপে নীল-সবুজ রঙের একটি দৃষ্টিনন্দন পাখি অম্বর চুটকির (ভেরডিটার ফ্লাইক্যাচার) দেখা মেলে। বৃষ্টির কবলে পড়ে ভিজে দুর্বল হয়ে যাওয়া পাখিটি উড়তে পারছিল না। তখন স্থানীয় জেলে সাইদুল সেটিকে উদ্ধার করে রৌদ্রে শুকিয়ে সুস্থ করে তোলেন এবং পরে পুনরায় প্রকৃতিতে অবমুক্ত করেন। সাধারণত ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এই পাখিটির উজ্জ্বল নীল-সবুজ পালক ও ঠোঁটের গোড়ায় কালচে অংশ বেশ নজরকাড়া। বাংলাদেশে মূলত শীতকালীন পরিযায়ী পাখি হিসেবেই এদের পরিচিতি রয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে উড়তে না পারা পাখিটিকে উদ্ধার করে রোদে শুকিয়ে সুস্থ করার পর ফের প্রকৃতিতে ছেড়ে দিয়েছেন স্থানীয় এক জেলে। বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির বুক চিরে জেগে ওঠা চর বিজয় যেন দিনদিন হয়ে উঠছে উপকূলের নতুন জীববৈচিত্র্যের ঠিকানা। চর বিজয়ের বালুচরে পাখিটিকে প্রথম দেখতে পান স্থানীয় জেলে সাইদুল। পরিবেশবাদীদের মতে, চর বিজয়ের মতো নির্জন উপকূলীয় দ্বীপে ভেরডিটার ফ্লাইক্যাচারের উপস্থিতি সেখানকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
পরিবেশবিদরা চর বিজয়ের এই পরিস্থিতিকে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন। উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু জানান, পরিযায়ী পাখির নিয়মিত বিচরণ প্রমাণ করে যে, চর বিজয় উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আবাসস্থল হয়ে উঠেছে। পাখিদের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র নিশ্চিত করতে দ্বীপটিতে শিকার ও জাল পাতা বন্ধের পাশাপাশি পর্যটকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভেরডিটার ফ্লাইক্যাচার দেশে একটি বিস্তৃত পরিযায়ী পাখি, যা শীতকালে সচরাচর একা বা ছোট দলে বিচরণ করে থাকে। মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রায় ২৩০ একর আয়তনের এই দ্বীপে বন বিভাগ নিয়মিত বনায়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সেখানে ঝাউ, হেঁতাল, গেওয়া ও গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে, যা পাখিদের অভয়ারণ্য তৈরিতে সহায়ক হচ্ছে। প্রায় ২৩০ একর আয়তনের দ্বীপটিতে নিয়মিত বনায়ন কার্যক্রম চলছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, শীত মৌসুমের শুরুতেই চর বিজয়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সমাগম ঘটে। দ্বীপজুড়ে লাল কাঁকড়ার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো দ্বীপের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং আগামীতেও সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
























