চাঁদাবাজদের ধরতে আসছে নতুন আইন: আইজিপি
- আপডেট সময় : ০৬:৫২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
দেশের জনজীবন থেকে চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল করতে সরকার নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনা পুলিশ লাইনে আয়োজিত এক সভায় তিনি জানান, এই আইন পাস হলে ভুক্তভোগী ব্যক্তির অভিযোগ বা সাক্ষ্য দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। কোনো চাঁদাবাজির ঘটনার ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া মাত্রই পুলিশ নিজে বাদী হয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। যেকোনো ধরনের ডিজিটাল এভিডেন্স (প্রমাণ) পেলেই তার বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য নিয়ে আইজিপি বলেন, প্রভাবশালী বা ক্ষমতার দাপট দেখানো ব্যক্তিরাই সাধারণত চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকে। সাধারণ মানুষ ভয়ে এদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে চান না, এমনকি সাক্ষ্য দিতেও ভীত থাকেন। নতুন আইনের মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতা দূর হবে এবং পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তিনি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই আইন কার্যকর হওয়ার আশা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ক্ষমতার দাপটে তারা এসব অপরাধ করে।
পুলিশের কাজের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বলপ্রয়োগ করলে পুলিশকে ‘ফ্যাসিস্ট’ এবং বলপ্রয়োগ না করলে ‘দুর্বল’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বর্তমান সরকার এমন পরিস্থিতি বদলে একটি কার্যকরী পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চায়, যারা সমাজ থেকে মাদক, কিশোর গ্যাং এবং চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করবে। আইজিপি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে মাদককে সমাজে যেভাবে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল, বর্তমান সরকার তার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করছে। আর যদি বল প্রয়োগ না করে, তখন বলা হয় ‘পুলিশ দুর্বল’। আইজিপি বলেন, বিগত ১৭ বছরে মাদককে সমাজের একটি স্বীকৃত বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আপনারা এবং আমরা সবাই মিলে একটি কার্যকরী পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চাই। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার জন্যই আমাদের নতুন প্রজন্ম কাজ করছে।
কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, এতদিন এটি কেবল খাতা-কলমের সীমাবদ্ধতায় বন্দী ছিল। এখন স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এটিকে আইনি কাঠামোর ভেতরে পুলিশের একটি সক্রিয় শাখা হিসেবে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল করিমসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

























