ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আগামীর মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী দখলমুক্ত হয়ে খেলার মাঠ এখন শিশুদের জন্য উন্মুক্ত সাতক্ষীরায় আলোচিত যুবক মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ভিয়েতনামের কোয়াং ত্রি বিমানবন্দরে সফল কারিগরি ফ্লাইট পরিচালনা প্রধানমন্ত্রী: জাতীয় স্বার্থে সরকার সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব সুদৃঢ় পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য ও চলাচল সাময়িক স্থগিত ইরানের উখিয়ায় রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ১ কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ড: নিহত ও আহতের খবর কলকাতায় পূজামণ্ডপ ধসে ১৭ জনের প্রাণহানি, আহত অন্তত ২০ ভারতে বিমানের অস্বাভাবিক ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারকে এক মাস সময়

জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আগামীর মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ০১:২৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা এবং আত্মমর্যাদা রক্ষা করাই আগামীর বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। রোববার সাভারে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, বাংলাদেশ সবসময় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে আগ্রহী।

অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকাকে একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পতাকার মান রক্ষা করা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র ও বড় দায়িত্ব। সেই সঙ্গে এই পতাকা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং দেশের অগণিত মানুষের ত্যাগের স্মারক হিসেবে কাজ করে। নতুন পতাকা হাতে পাওয়ার বিষয়টি সেনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ হিসেবেও গণ্য হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয় বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।’। ‘জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়তই আমাদেরকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয়।

সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাস স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে যে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমানের ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণের মাধ্যমে যে বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল, তা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শক্তির উৎস কেবল অস্ত্র বা জনবল নয়; এর প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও প্রশিক্ষণের মধ্যে। সংবিধান, দেশের আইন এবং সামরিক বিধিনিষেধ মেনে মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করা সশস্ত্র বাহিনীর কাছে জনগণের প্রত্যাশা। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার বাহিনী গঠনে সরকার নিরলস কাজ করছে বলে জানান তিনি। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড।আমরা সশস্ত্রবাহিনীকে আরো প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার এবং সর্বাধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।’।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশে প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিজস্ব কারখানায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে প্রযুক্তির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা, যা যেকোনো সংকটকালে দেশের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আগামীর মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:২৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা এবং আত্মমর্যাদা রক্ষা করাই আগামীর বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। রোববার সাভারে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, বাংলাদেশ সবসময় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে আগ্রহী।

অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকাকে একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পতাকার মান রক্ষা করা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র ও বড় দায়িত্ব। সেই সঙ্গে এই পতাকা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং দেশের অগণিত মানুষের ত্যাগের স্মারক হিসেবে কাজ করে। নতুন পতাকা হাতে পাওয়ার বিষয়টি সেনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ হিসেবেও গণ্য হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয় বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।’। ‘জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়তই আমাদেরকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয়।

সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাস স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে যে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমানের ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণের মাধ্যমে যে বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল, তা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শক্তির উৎস কেবল অস্ত্র বা জনবল নয়; এর প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও প্রশিক্ষণের মধ্যে। সংবিধান, দেশের আইন এবং সামরিক বিধিনিষেধ মেনে মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করা সশস্ত্র বাহিনীর কাছে জনগণের প্রত্যাশা। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার বাহিনী গঠনে সরকার নিরলস কাজ করছে বলে জানান তিনি। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড।আমরা সশস্ত্রবাহিনীকে আরো প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার এবং সর্বাধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।’।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশে প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিজস্ব কারখানায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে প্রযুক্তির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা, যা যেকোনো সংকটকালে দেশের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।