জামায়াত নেতার ৭০০ অটোরিকশা: প্রমাণ চাইলেন জুবায়ের
- আপডেট সময় : ০৩:৪৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে অটোরিকশার মালিকানা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। প্রশাসক গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পৃথক বক্তব্যে দাবি করেন, অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে কথা বলা জামায়াত নেতার ব্যক্তিগত মালিকানায় ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে। তিনি এই বক্তব্যকে হাস্যকর হিসেবেও অভিহিত করেন।
প্রশাসকের এমন মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, ডিএনসিসি প্রশাসক একজন সরকারি দায়িত্বশীল পদে থেকে যে ধরনের কাল্পনিক, অসত্য ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দাযোগ্য। তিনি দাবি করেন, কোনো রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলার আগে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা আবশ্যক। এহসানুল মাহবুব বলেন, প্রশাসক যদি তার দেওয়া তথ্যের সপক্ষে প্রমাণ দাখিল করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে অবিলম্বে জনসমক্ষে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে। এ ধরনের কাল্পনিক, অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ বক্তব্যের নিন্দা করে এহাসানুল মাহবুব বলেছেন, ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছ থেকে জনগণ দায়িত্বশীল, তথ্যনির্ভর ও শালীন বক্তব্য প্রত্যাশা করে।
অটোরিকশা সংক্রান্ত এই বিতর্কের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অটোরিকশা চালকরা সম্প্রতি তাদের জীবিকার বৈধতা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন ও বিক্ষোভ করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে চালকদের এই ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এ ধরনের রাজনৈতিক অবস্থানের পরপরই একটি টেলিভিশন টকশোতে দাবি করা হয় যে, জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের ৭০০টি অটোরিকশা আছে বলেই তিনি উচ্ছেদের বিরোধিতা করছেন। এরপর টেলিভিশন টকশোতে বলা হয়, জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের ৭০০ অটোরিকশা রয়েছে। পরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই নেতার নাকি ৭০০টা অটোরিকশা আছে।’।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। তখন তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি চালকদের জীবিকা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুখুল কবির রিজভী সেই উচ্ছেদ প্রচেষ্টাকে নিষ্ঠুর হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। বর্তমান সময়ে জামায়াতে ইসলামী অনেকটা একই অবস্থানে রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানজট নিরসন এবং অটোরিকশা চালকদের জীবিকা রক্ষার মতো বিষয়গুলো জনস্বার্থের অংশ। রাজনৈতিক কোনো দলের অবস্থান খণ্ডন করতে হলে তা যুক্তি ও বাস্তবসম্মত আলোচনার মাধ্যমে করা উচিত। কোনো নেতার ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ণ করতে এ ধরনের প্রমাণহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তোলা জনপ্রশাসনের কাছ থেকে কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব।






















