ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান আটক: পাচার ২ হাজার গোপন নথি

  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জার্মানির ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস বা বিএনডি-এর সাবেক প্রধান অগাস্ট হ্যানিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি পাচার, গুপ্তচরবৃত্তি এবং রাষ্ট্রদ্রোহের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হ্যানিং ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং অবসর গ্রহণের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই অপরাধে হ্যানিং একা ছিলেন না। বিএনডির সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ম্যানফ্রেড ডি-কে এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ম্যানফ্রেড অতীতে হ্যানিংয়ের ব্যুরোপ্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনডি প্রধানদের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ম্যানফ্রেড নিজের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সরকারি অত্যন্ত গোপনীয় নথি সংগ্রহ করতেন এবং অর্থের বিনিময়ে সেগুলো হ্যানিংয়ের কাছে পাচার করতেন। অর্থের বিনিময়ে প্রায় ২ হাজার সংবেদনশীল ও অত্যন্ত গোপনীয় নথি পাচারের অভিযোগে বিএনডির সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ম্যানফ্রেড ডি-কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আদালতের নথিপত্র ও প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ম্যানফ্রেড ডি-এর কাছ থেকে পাওয়া নথি ব্যবহার করে হ্যানিং বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার জন্য বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করতেন। পাশাপাশি অন্য একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাকে রাজনৈতিক তথ্য সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে তদন্তের স্বার্থে কোন দেশ বা সংস্থা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত, তা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ভিন্ন একটি মামলার তদন্তের সময়। জার্মান স্টেকহাউস ব্যবসায়ী ক্রিস্টিনা ব্লকের সন্তানদের অপহরণসংক্রান্ত তদন্ত চালাতে গিয়ে পুলিশ একটি ইলেকট্রনিক ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস উদ্ধার করে। ডিভাইসটি পরীক্ষার সময় বিএনডির বেশ কিছু সাম্প্রতিক ও সংবেদনশীল নথিপত্র পাওয়া যায়, যা থেকে ঘটনার সূত্র মেলে। এর পরই নর্ডওয়াল্ডে হ্যানিংয়ের বাড়ি থেকে তাকে এবং বাভারিয়া থেকে ম্যানফ্রেড ডি-কে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে দুজনকে আদালতে হাজির করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, জার্মান গোয়েন্দা সংস্থায় রাষ্ট্রীয় তথ্য পাচারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০২৩ সালে কার্স্টেন এল নামের অপর এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ওয়াগনার গ্রুপ সংক্রান্ত তথ্য রাশিয়ার কাছে পাচারের অভিযোগ ওঠে। চার লাখ ইউরোর বিনিময়ে তথ্য বিক্রির ওই মামলার বিচারকাজ এখনও চলছে। ২০২৩ সালেও কার্স্টেন এল নামের এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ওয়াগনার গ্রুপসংক্রান্ত তথ্য রাশিয়ার কাছে পাচার এবং এর বিনিময়ে প্রায় ৪ লাখ ইউরো নেওয়ার অভিযোগে বিচার শুরু হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান আটক: পাচার ২ হাজার গোপন নথি

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

জার্মানির ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস বা বিএনডি-এর সাবেক প্রধান অগাস্ট হ্যানিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি পাচার, গুপ্তচরবৃত্তি এবং রাষ্ট্রদ্রোহের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হ্যানিং ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং অবসর গ্রহণের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই অপরাধে হ্যানিং একা ছিলেন না। বিএনডির সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ম্যানফ্রেড ডি-কে এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ম্যানফ্রেড অতীতে হ্যানিংয়ের ব্যুরোপ্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনডি প্রধানদের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ম্যানফ্রেড নিজের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সরকারি অত্যন্ত গোপনীয় নথি সংগ্রহ করতেন এবং অর্থের বিনিময়ে সেগুলো হ্যানিংয়ের কাছে পাচার করতেন। অর্থের বিনিময়ে প্রায় ২ হাজার সংবেদনশীল ও অত্যন্ত গোপনীয় নথি পাচারের অভিযোগে বিএনডির সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ম্যানফ্রেড ডি-কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আদালতের নথিপত্র ও প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ম্যানফ্রেড ডি-এর কাছ থেকে পাওয়া নথি ব্যবহার করে হ্যানিং বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার জন্য বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করতেন। পাশাপাশি অন্য একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাকে রাজনৈতিক তথ্য সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে তদন্তের স্বার্থে কোন দেশ বা সংস্থা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত, তা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ভিন্ন একটি মামলার তদন্তের সময়। জার্মান স্টেকহাউস ব্যবসায়ী ক্রিস্টিনা ব্লকের সন্তানদের অপহরণসংক্রান্ত তদন্ত চালাতে গিয়ে পুলিশ একটি ইলেকট্রনিক ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস উদ্ধার করে। ডিভাইসটি পরীক্ষার সময় বিএনডির বেশ কিছু সাম্প্রতিক ও সংবেদনশীল নথিপত্র পাওয়া যায়, যা থেকে ঘটনার সূত্র মেলে। এর পরই নর্ডওয়াল্ডে হ্যানিংয়ের বাড়ি থেকে তাকে এবং বাভারিয়া থেকে ম্যানফ্রেড ডি-কে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে দুজনকে আদালতে হাজির করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, জার্মান গোয়েন্দা সংস্থায় রাষ্ট্রীয় তথ্য পাচারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০২৩ সালে কার্স্টেন এল নামের অপর এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ওয়াগনার গ্রুপ সংক্রান্ত তথ্য রাশিয়ার কাছে পাচারের অভিযোগ ওঠে। চার লাখ ইউরোর বিনিময়ে তথ্য বিক্রির ওই মামলার বিচারকাজ এখনও চলছে। ২০২৩ সালেও কার্স্টেন এল নামের এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ওয়াগনার গ্রুপসংক্রান্ত তথ্য রাশিয়ার কাছে পাচার এবং এর বিনিময়ে প্রায় ৪ লাখ ইউরো নেওয়ার অভিযোগে বিচার শুরু হয়।