জুলাইকে ধারণ না করায় বিরোধীদলের সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০২:৩১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও অংশগ্রহণ না করায় বিরোধীদলের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ না করার কারণেই বিরোধীদল এই আয়োজনে অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। যদি তারা জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করত, তবে এই অনুষ্ঠানে এসে জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্যদের পাশে বসতে পারতেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানটি জুলাইয়ের আত্মত্যাগকারী মানুষদেরকে নিয়ে। পরে আলোচনা সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বিরোধীদলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যারা তাদেরকে যেমন দাওয়াত দেওয়া হয়েছে, ঠিক একইভাবে বিরোধীদলের নেতাসহ বিরোধীদলের যারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাদেরকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। সরকারের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব আছে, থাকুক দূরত্ব। যদি দূরত্ব আপনারা রাখতে চান কোনো সমস্যা নাই।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা আজ যাদের কারণে রাজনৈতিক পরিচিতি পেয়েছেন বা বিরোধীদলের আসনে অধিষ্ঠিত হতে পেরেছেন, সেই শহীদ ও আহতদের সম্মান জানানোর দায়বদ্ধতা তাদের ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীদল যদি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ না করে, তবে তা জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে এক ধরনের গাদ্দারি হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি যেভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে, একইভাবে জুলাইয়ের বিপ্লবকেও তাদের ধারণ করা উচিত। সরকার গঠনের পর থেকে বিএনপি জুলাইয়ের আহত যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সেজন্যই আপনারা দেখেছেন সরকার গঠন করার পর থেকে বিএনপি চেষ্টা করেছে জুলাইয়ে যেসব যোদ্ধা আহত হয়েছেন, পর্যায়ক্রমে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। কিন্তু যেই মানুষগুলোর জন্য আজকে আপনারা বিরোধীদলের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, যেই মানুষগুলো জীবন উৎসর্গের কারণে, যেই মানুষগুলো আহত হওয়ার কারণে, যে মানুষগুলো চোখ হারানোর কারণে আজ আপনারা বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন, বিরোধীদলের সংসদ সদস্য।
প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, দেশের মানুষ দেখছে বিরোধীদল কেবল বিরোধিতার খাতিরেই বিরোধিতা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এটি কেবল জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গেই নয়, বরং ৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও গাদ্দারি করার সামিল।
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান সময়ে পত্রপত্রিকায় ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগজনক সংবাদ আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এডিস মশা সরকারি বা বিরোধী দল চেনে না, এটি সবার জন্যই সমান ক্ষতিকর। সরকার গঠনের শুরুর দিকে ফজরের নামাজের পর বিভিন্ন জায়গায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও ঝাড়ু দেওয়ার যে তৎপরতা দেখা গিয়েছিল, তা বর্তমানে কমে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব আরোপের আহ্বান জানান। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতায় জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পত্রপত্রিকা খুললেই আমরা এখন দেখছি ডেঙ্গুর বিষয়টি।






















