টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষ, বাড়তি ভাড়ায় নাভিশ্বাস
- আপডেট সময় : ০১:০৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
দুর্গাপূজা ও সরকারি ছুটির সমন্বয়ে টানা পাঁচ দিনের সুযোগ পাওয়ায় রাজধানী ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকেই সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড়সহ ঢাকার প্রধান বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই ঘরমুখো মানুষের ঢলকে পুঁজি করে এক শ্রেণির পরিবহন কোম্পানি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ভাষ্য, রাজধানীর অন্যতম বড় বাস টার্মিনাল সায়েদাবাদ ও এর আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই যাত্রীদের আনাগোনা বেড়েছে।
যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার উত্তর প্রান্ত থেকে শরীয়তপুরগামী ফেম পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা সোহেল আহমেদ জানান, ছুটি শুরু হওয়ায় যাত্রীচাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। আগে শরীয়তপুর রুটে ভাড়া ছিল ২৫০ টাকা, যা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ২৮০ টাকায় নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই ভাড়া ৩০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। মিজান হোসেন নামের এক যাত্রী অভিযোগ করেন, বাসে জায়গা পাওয়া দায়, তার ওপর বাড়তি ভাড়ার চাপে সাধারণ যাত্রীরা দিশেহারা। শরীয়তপুরের নড়িয়া যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন মিজান হোসেন। তাঁদের ভাষ্য, অন্য সময়ে এ রুটে ভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা হলেও এখন নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা।
ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া লিয়াকত হোসেন।
তিনি জানান, সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও সঠিক মূল্যে বাস পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, বাসের পাশাপাশি যাত্রীর সংখ্যাও বেশি। তিনি একটি ভোগ্যপণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
স্থানীয় পরিবহনে যেখানে ভাড়া সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা হওয়ার কথা, সেখানে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। একই চিত্র কুমিল্লা রুটেও, যেখানে সাধারণ সময়ের চেয়ে অন্তত ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা। তবে কুমিল্লা রুটের তিশা পরিবহনের কর্মী শাহাদাত হোসেন অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, তারা সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিচ্ছেন না। আব্দুর রহমান বলেন, যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি থাকায় বাসগুলো অতিরিক্ত ভাড়া চাইছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত সোমবার বিকেল থেকেই টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। এদিকে, টানা পাঁচ দিনের এই ছুটির সুবাধে মানুষ স্বস্তি খুঁজলেও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সেই আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।
গত ৫ অক্টোবর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীর সাধারণ ছুটি রয়েছে। এছাড়া, ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিশেষ ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ায় এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে পাঁচ দিনের টানা বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতেও অফিস খোলা ছিল, যা বর্তমান ছুটির এই দীর্ঘসূত্রিতার পটভূমি তৈরি করে।




















