ঢাকার ৪ বারে এনবিআরের বিশেষ অভিযান
- আপডেট সময় : ০৯:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
রাজধানীর চারটি বারে একযোগে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শনিবার (৩ অক্টোবর) এনবিআরের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। মূলত অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের অবৈধ উৎস, শুল্ক, মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে পণ্য সরবরাহের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযান চালানো প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—আরএ ডাব্লিউ ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, মার্গারিটা লাউঞ্জ এবং ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড। এদের মধ্যে ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের মালিকানা রয়েছে আলোচিত ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের হাতে। এছাড়া ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি ডিপ্লোম্যাটিক ওয়্যারহাউস নিয়েও অনুসন্ধান চলছিল। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ ওঠার পর থেকেই গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল। এর আগে ওই প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের বাইরে আরও দুটি অননুমোদিত ওয়্যারহাউসে অ্যালকোহল মজুত পাওয়ার পর চারটি ওয়্যারহাউসই সিলগালা করা হয়।
এই অভিযানে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) চারটি দল অংশ নিয়েছে। তাদের সহায়তা করেছে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা অধিদপ্তর এবং ঢাকা (উত্তর) ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা। অভিযানে সরেজমিনে পরিদর্শন, নথিপত্র যাচাই-বাছাই ও বিভিন্ন তথ্য প্রমাণের অনুসন্ধান চলছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুত থাকা পণ্যের বৈধতা, আমদানির দলিল এবং রাজস্ব পরিশোধের বিষয়টি পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ চেয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) নোটিশ দিয়েছে। এর আগে ঢাকার মিরপুরে নিজের স্টুডিওতে হামলার ঘটনার বিষয়েও সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি ক্ষমতাসীন মহলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন। এতে তিনি ওই ঘটনার জন্য ক্ষমতাসীনদের দায়ী করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানটি মূলত অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম দমনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বার, রেস্টুরেন্ট ও শুল্কমুক্ত পণ্যের দোকানে যেসব অসঙ্গতি ও রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে, তা খতিয়ে দেখতেই এনবিআর এই বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।






















