ঢাকা-সিলেট ছয় লেন প্রকল্পের কাজে ধীরগতি
- আপডেট সময় : ১০:২৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 18
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার মেগা প্রকল্পের হবিগঞ্জ অংশে কাজের গতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রায় ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশে গত পাঁচ বছরে গড়ে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, কিছু এলাকায় অগ্রগতি এর চেয়েও কম। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ৩০ হাজার কোটি টাকা বাজেটের এই প্রকল্পের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে গুরুত্ব পাওয়া এই প্রকল্পের কাজের বর্তমান ধীরগতিতে ভোগান্তি বাড়ছে যাত্রী ও পরিবহন চালকদের।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জমি অধিগ্রহণ ও ঠিকাদার চূড়ান্ত করার আগেই ২০২১ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, যা কাজের শুরুর দিকে জটিলতা তৈরি করে। বাসচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ চললেও এর সমাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ হলে ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা কমবে এবং যাতায়াতের সময় সাশ্রয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকল্প ব্যবস্থাপক-৫ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন জানান, বাহুবল থেকে শেরপুর পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার অংশে কাজ করছে দুটি প্রতিষ্ঠান। শুরুতে জমি অধিগ্রহণসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় কাজের গতি কম থাকলেও বর্তমানে তা দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং এ অংশে প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প ব্যবস্থাপক-৪ ও নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জোহা জানান, মাধবপুর থেকে বাহুবল পর্যন্ত ৩৪.৬ কিলোমিটার এলাকায় ধীরগতির ঠিকাদারদের সতর্ক করা হয়েছে। কাজ দ্রুত শেষ না করলে তাদের সাথে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এদিকে উপপ্রকল্প পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন, মাধবপুর থেকে জগদীশপুর পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার অংশে ২৬টি কালভার্ট ও সাতটি সেতু নির্মাণের কাজ চলছে, যার ৩৮.৬ শতাংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি সরানো ও জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণেই মূলত নির্মাণকাজ বিলম্বিত হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, প্রতিকূলতা থাকলেও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে সেতু ও ওভারপাস নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ড. এসএম সরফরাজ আশ্বস্ত করেছেন যে, হবিগঞ্জ অংশে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার কাজ দ্রুততার সাথে শেষ হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই জটিলতা পুরোপুরি নিরসন হলে নির্মাণকাজের গতি আরও বাড়বে। প্রকল্প কর্মকর্তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সকল বাধা কাটিয়ে সরকারের নতুন লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই ছয় লেনের এই সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবুও প্রকল্প কর্মকর্তারা আশাবাদী, সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে যানবাহন চলাচল করবে ছয় লেন সড়কে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উপআঞ্চলিক যোগাযোগ, বিশেষ করে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব বিবেচনায় প্রকল্পটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যাদের কাজে খুব ধীরগতি, তাদের সতর্ক করে নোটিস দেওয়া হবে।























