ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে উন্মুক্ত প্রস্তাব চাইল বিশেষ কমিটি

  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 11
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংবিধান সংশোধন বিষয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি প্রিন্ট মিডিয়ার পর এবার ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে আয়োজিত এই চতুর্থ বৈঠকে টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রধান নির্বাহী, সম্পাদক, হেড অব নিউজ এবং বিশিষ্ট টকশো ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ও টেকসই রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে উন্মুক্ত প্রস্তাব আহ্বান করেছে কমিটি। একইসঙ্গে সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী আনা হয়। সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তর প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গত রোববার ও মঙ্গলবার দুই দফায় গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সামাজিক শক্তি এবং গত ১৭ বছরে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গেও পর্যায়ক্রমে বৈঠক করা হবে। সবশেষে ড. আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি খসড়া রিপোর্ট প্রণয়ন করা হবে, যা পরে সংসদে পেশ করা হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রক্রিয়া ও ধাপ নিয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদে এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে। কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো গঠনের একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছে। সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে লিখিত ও গঠনমূলক পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে, যা জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত রূপ পাবে। পাওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্তটিকে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে। এখানে অঙ্গরাজ্যের কোনো সিস্টেম নেই।

সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনী প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পাশাপাশি বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার বিষয়ে ওঠা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকে একে অগণতান্ত্রিক বললেও, স্বৈরতন্ত্র ঠেকাতে তাদের দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই এই প্রস্তাব করেছিলেন এবং তারা সেই অবস্থানে এখনো অটল রয়েছেন। তবে সংসদে অন্য কোনো পক্ষ থেকে বিকল্প প্রস্তাব এলে তা আলোচনার সুযোগ রয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার বিষয়ে অনেকে মত দিয়েছেন যে এটি অগণতান্ত্রিক এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থি। কিন্তু আমাদের দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছিলেন যেন কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকেন।

দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সংবিধানে বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত হলেও ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দ্বিকক্ষ পার্লামেন্টের বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিরোধী দলকে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদের কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে তা সমঝোতার ভিত্তিতে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। এর জন্য তাদের কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনায় আসার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে উন্মুক্ত প্রস্তাব চাইল বিশেষ কমিটি

আপডেট সময় : ০৯:৩২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংবিধান সংশোধন বিষয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি প্রিন্ট মিডিয়ার পর এবার ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে আয়োজিত এই চতুর্থ বৈঠকে টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রধান নির্বাহী, সম্পাদক, হেড অব নিউজ এবং বিশিষ্ট টকশো ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ও টেকসই রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে উন্মুক্ত প্রস্তাব আহ্বান করেছে কমিটি। একইসঙ্গে সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী আনা হয়। সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তর প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গত রোববার ও মঙ্গলবার দুই দফায় গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সামাজিক শক্তি এবং গত ১৭ বছরে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গেও পর্যায়ক্রমে বৈঠক করা হবে। সবশেষে ড. আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি খসড়া রিপোর্ট প্রণয়ন করা হবে, যা পরে সংসদে পেশ করা হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রক্রিয়া ও ধাপ নিয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদে এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে। কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো গঠনের একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছে। সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে লিখিত ও গঠনমূলক পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে, যা জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত রূপ পাবে। পাওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্তটিকে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে। এখানে অঙ্গরাজ্যের কোনো সিস্টেম নেই।

সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনী প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পাশাপাশি বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার বিষয়ে ওঠা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকে একে অগণতান্ত্রিক বললেও, স্বৈরতন্ত্র ঠেকাতে তাদের দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই এই প্রস্তাব করেছিলেন এবং তারা সেই অবস্থানে এখনো অটল রয়েছেন। তবে সংসদে অন্য কোনো পক্ষ থেকে বিকল্প প্রস্তাব এলে তা আলোচনার সুযোগ রয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার বিষয়ে অনেকে মত দিয়েছেন যে এটি অগণতান্ত্রিক এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থি। কিন্তু আমাদের দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছিলেন যেন কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকেন।

দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সংবিধানে বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত হলেও ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দ্বিকক্ষ পার্লামেন্টের বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিরোধী দলকে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদের কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে তা সমঝোতার ভিত্তিতে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। এর জন্য তাদের কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনায় আসার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।