দালালের খপ্পর এড়িয়ে বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির
- আপডেট সময় : ০১:৪৩:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 21
দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি জমানোর পরিবর্তে বৈধ প্রক্রিয়ায় ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া পরিবারসহ বৈধভাবে অভিবাসনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ১২ হাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রোর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি উল্লেখ করেন, ইতালিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যাদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের আদি নিবাস শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলে।
বৈঠকে ইতালির রাষ্ট্রদূত উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের কিছু মানুষ এখনো দালালের প্ররোচনায় লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সংশ্লিষ্ট তিন জেলায় সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যারা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন। তবে বর্তমানে ইতালিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
দুই দেশের মধ্যে শ্রম অভিবাসনের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালিয়ান ভাষা শেখানোর জন্য ইতালি থেকে প্রশিক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশি স্থপতিদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একজন সিটি মেয়র ও কয়েকজন স্থপতিকে ইতালিতে প্রশিক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা ও অপচয় রোধেও ইতালির মিলান শহরের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো জানান, দুই দেশের বাণিজ্য, অভিবাসন এবং বিভিন্ন শহরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করতে ইতালি অত্যন্ত আগ্রহী। বাংলাদেশ ও ইতালির পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে নিজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের কাছে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। সব মিলিয়ে, শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে দালালের ফাঁদ এড়িয়ে বৈধ পথ অনুসরণের ওপরই সরকার ও ইতালির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুতের পর এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইতালির দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটি সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছিল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন এবং সেই কথাই তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।






















