ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দিল্লিতে বিরোধীদের বড় বিক্ষোভ, সিইসির পদত্যাগ দাবিতে সরব মমতা ইউএস এম্বাসির অ্যাকসেস প্রোগ্রাম শেষ করলেন সমৃদ্ধি হালদার সব সরকারি সেবা মিলবে এক প্ল্যাটফর্মে, নির্দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার ৯৪ বছরের আইনজীবী ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শর্ত ও বাস্তবতা ৩৪ লাখ শিশুর হাম-রুবেলা টিকাদানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় সহায়তা রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা অনির্দিষ্টকাল বহন সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

দিল্লিতে বিরোধীদের বড় বিক্ষোভ, সিইসির পদত্যাগ দাবিতে সরব মমতা

  • আপডেট সময় : ১২:৫৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে ফের তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটছে বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া। বুধবারের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আরও বড় পরিসরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী নেতারা এই ধারাবাহিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) বিক্ষোভের সময় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকের পর বিরোধী নেতারা যন্তর মন্তরের দিকে যাত্রা করেন। এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের যাতায়াতের জন্য তিনটি বিশেষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু অশোক রোডে শাংরি-লা হোটেলের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাসগুলো থামিয়ে দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গন্তব্য থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে আটকে পড়ার পর নেতারা সেখানেই অবস্থান নেন এবং সিইসির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ অনেক শীর্ষ নেতাকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়, যা পরিস্থিতির তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে, যার ফলে প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিহারের ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ নিয়ে তারা দীর্ঘ দিন ধরে আপত্তি জানিয়ে এলেও নির্বাচন কমিশন তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধীদের মতে, কমিশনের এই উদাসীনতা ও অগণতান্ত্রিক কার্যপদ্ধতি রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বুধবার নেতাদের আটকের ঘটনার পর বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিকে আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, আজকের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা বুধবারের তুলনায় অনেক বেশি। নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তারা এই ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছেন। একদিকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের অনড় অবস্থান, অন্যদিকে রাজপথে ক্রমেই বাড়তে থাকা এই আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাপের জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লিতে বিরোধীদের বড় বিক্ষোভ, সিইসির পদত্যাগ দাবিতে সরব মমতা

আপডেট সময় : ১২:৫৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে ফের তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটছে বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া। বুধবারের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আরও বড় পরিসরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী নেতারা এই ধারাবাহিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) বিক্ষোভের সময় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকের পর বিরোধী নেতারা যন্তর মন্তরের দিকে যাত্রা করেন। এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের যাতায়াতের জন্য তিনটি বিশেষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু অশোক রোডে শাংরি-লা হোটেলের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাসগুলো থামিয়ে দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গন্তব্য থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে আটকে পড়ার পর নেতারা সেখানেই অবস্থান নেন এবং সিইসির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ অনেক শীর্ষ নেতাকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়, যা পরিস্থিতির তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে, যার ফলে প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিহারের ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ নিয়ে তারা দীর্ঘ দিন ধরে আপত্তি জানিয়ে এলেও নির্বাচন কমিশন তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধীদের মতে, কমিশনের এই উদাসীনতা ও অগণতান্ত্রিক কার্যপদ্ধতি রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বুধবার নেতাদের আটকের ঘটনার পর বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিকে আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, আজকের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা বুধবারের তুলনায় অনেক বেশি। নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তারা এই ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছেন। একদিকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের অনড় অবস্থান, অন্যদিকে রাজপথে ক্রমেই বাড়তে থাকা এই আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাপের জন্ম দিয়েছে।