ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদ

  • আপডেট সময় : ০৬:৫২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 22
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধানের শুরুতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ মর্মে প্রেস ব্রিফিং ও গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা তার পক্ষে এই রিট আবেদনটি জমা দেন। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা এই রিট পিটিশনটির নম্বর ১৩৮৮৫/২০২৬।

রিট আবেদনে গত ২ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর দুদক কর্তৃক আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংগুলোকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আর্জি জানানো হয়েছে। রিটে উল্লেখ করা হয়, ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপ-পরিচালক জানিয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধানে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে। অথচ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, অনুসন্ধানের শুরুতে এমন বক্তব্য দেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই; অনুসন্ধানের ফলাফল আসার পরই কেবল এমন মন্তব্যের অবকাশ থাকে। যদিও ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব গণমাধ্যমের কাছে এই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা মুখ ফসকে বলা ভুল বলে স্বীকার করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দুঃখ প্রকাশ করেন, তবুও কমিশন এ অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ফলে এতে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকা আইনগত ও বাস্তবিকভাবে অসম্ভব।

আবেদনে আরও জানানো হয়, আইনি নোটিশ পাঠানোর পরেও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক ফের আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করেন। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার ও অর্থপাচারের মতো নতুন নতুন অভিযোগ তোলা হয়। এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কার্যকর হয়েছিল। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়টি তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর ১১ মে ২০২৬ তারিখে কার্যকর হয়েছে, যেখানে তার কোনো ভূমিকা ছিল না। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও, তা আমলে না নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দুদকের সহকারী পরিচালক আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করেন। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার যে পদোন্নতির কথা বলা হয়েছে, তা তিনি পদত্যাগের (১১ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রায় পাঁচ মাস পর (১১ মে ২০২৬) কার্যকর হয়। পাশাপাশি, বিচারাধীন কোনো বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা এবং ইতোমধ্যে প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়ে সমগুরুত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে দুদক এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। একে একটি পরিকল্পিত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হিসেবে উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়, এর মাধ্যমে সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে তিনি প্রার্থিতা ঘোষণার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ পরিচালনার উদ্দেশ্যে এমন ব্রিফিং করা হয়েছে, যা সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা। 31, 2011.

নিউজটি শেয়ার করুন

দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদ

আপডেট সময় : ০৬:৫২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধানের শুরুতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ মর্মে প্রেস ব্রিফিং ও গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা তার পক্ষে এই রিট আবেদনটি জমা দেন। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা এই রিট পিটিশনটির নম্বর ১৩৮৮৫/২০২৬।

রিট আবেদনে গত ২ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর দুদক কর্তৃক আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংগুলোকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আর্জি জানানো হয়েছে। রিটে উল্লেখ করা হয়, ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপ-পরিচালক জানিয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধানে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে। অথচ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, অনুসন্ধানের শুরুতে এমন বক্তব্য দেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই; অনুসন্ধানের ফলাফল আসার পরই কেবল এমন মন্তব্যের অবকাশ থাকে। যদিও ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব গণমাধ্যমের কাছে এই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা মুখ ফসকে বলা ভুল বলে স্বীকার করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দুঃখ প্রকাশ করেন, তবুও কমিশন এ অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ফলে এতে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকা আইনগত ও বাস্তবিকভাবে অসম্ভব।

আবেদনে আরও জানানো হয়, আইনি নোটিশ পাঠানোর পরেও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক ফের আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করেন। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার ও অর্থপাচারের মতো নতুন নতুন অভিযোগ তোলা হয়। এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কার্যকর হয়েছিল। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়টি তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর ১১ মে ২০২৬ তারিখে কার্যকর হয়েছে, যেখানে তার কোনো ভূমিকা ছিল না। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও, তা আমলে না নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দুদকের সহকারী পরিচালক আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করেন। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার যে পদোন্নতির কথা বলা হয়েছে, তা তিনি পদত্যাগের (১১ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রায় পাঁচ মাস পর (১১ মে ২০২৬) কার্যকর হয়। পাশাপাশি, বিচারাধীন কোনো বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা এবং ইতোমধ্যে প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়ে সমগুরুত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে দুদক এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। একে একটি পরিকল্পিত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হিসেবে উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়, এর মাধ্যমে সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে তিনি প্রার্থিতা ঘোষণার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ পরিচালনার উদ্দেশ্যে এমন ব্রিফিং করা হয়েছে, যা সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা। 31, 2011.