ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা চ্যালেঞ্জের মুখেও এমিরেটস গ্রুপের ১.১ বিলিয়ন ডলার মুনাফা নেতানিয়াহুর চেয়ে জনপ্রিয় জোহরান মামদানি, বলছে জিবিএওর জরিপ ইরানের ওপর নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভুটানকে হারিয়ে জয় দিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের সাঁথিয়ায় ভাগ্নিকে নিরাপত্তা ঘটনায়: মামা আটক ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় আহত আরও এক ভারতীয়র প্রয়াণ ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে স্বৈরাচারী শক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় ২৫ মাসে ২২৫ মৃত্যুর ঘটনা: অপরাধের স্বর্গরাজ্যে আতঙ্কিত জনজীবন

দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

  • আপডেট সময় : ১১:১৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের কৃষি খাতের চাহিদা মেটাতে এবং সারের আমদানি নির্ভরতা কমাতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর আওতায় এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। সংস্থাটির লক্ষ্য আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে মোট সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভোলায় একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই কারখানাটি চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে, তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিসিআইসি। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার আরও একটি নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামালের সংকট ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা নতুন কারখানার মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তৃতীয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে নরসিংদীর পলাশে। এখানে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জমিতে বার্ষিক ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা তৈরি করা হবে। বিদ্যমান শিল্প কাঠামোর অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে শিল্পপণ্য উৎপাদনের এই উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা জানান, কারখানাগুলো নির্মাণের ফলে নির্মাণ পর্যায় থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে সুনির্দিষ্ট জনবল কাঠামো, প্রকল্পের নকশা ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো চূড়ান্ত হওয়ার পরই কর্মসংস্থানের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা ও বাজার চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ শ্রমিক ও পরিচালনা কাজে নিয়োজিত কর্মীদের পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে বিসিআইসির অধীনে মোট সাতটি কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া ও দুটি নন-ইউরিয়া সার প্রস্তুতকারক। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন, যার বিপরীতে সংস্থাটির নিজস্ব উৎপাদনে মাত্র ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন বা ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয়েছে।

একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও দেশীয় কারখানাগুলো থেকে যথাক্রমে মাত্র ৬৮ হাজার ২৫৯ এবং ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন।

যা মোট চাহিদার যথাক্রমে মাত্র ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ। চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করতে সরকারকে মোটা অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বর্তমানে ইউরিয়া সারে প্রতি মেট্রিক টনে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হচ্ছে।

নতুন এই তিনটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহের ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বাড়বে। বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন কারখানা স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নেও তারা সমান্তরাল গুরুত্ব দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ১১:১৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

দেশের কৃষি খাতের চাহিদা মেটাতে এবং সারের আমদানি নির্ভরতা কমাতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর আওতায় এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। সংস্থাটির লক্ষ্য আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে মোট সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভোলায় একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই কারখানাটি চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে, তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিসিআইসি। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় বার্ষিক ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার আরও একটি নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামালের সংকট ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা নতুন কারখানার মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তৃতীয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে নরসিংদীর পলাশে। এখানে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জমিতে বার্ষিক ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা তৈরি করা হবে। বিদ্যমান শিল্প কাঠামোর অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে শিল্পপণ্য উৎপাদনের এই উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা জানান, কারখানাগুলো নির্মাণের ফলে নির্মাণ পর্যায় থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে সুনির্দিষ্ট জনবল কাঠামো, প্রকল্পের নকশা ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো চূড়ান্ত হওয়ার পরই কর্মসংস্থানের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা ও বাজার চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ শ্রমিক ও পরিচালনা কাজে নিয়োজিত কর্মীদের পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে বিসিআইসির অধীনে মোট সাতটি কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া ও দুটি নন-ইউরিয়া সার প্রস্তুতকারক। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন, যার বিপরীতে সংস্থাটির নিজস্ব উৎপাদনে মাত্র ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন বা ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয়েছে।

একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও দেশীয় কারখানাগুলো থেকে যথাক্রমে মাত্র ৬৮ হাজার ২৫৯ এবং ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন।

যা মোট চাহিদার যথাক্রমে মাত্র ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ। চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করতে সরকারকে মোটা অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বর্তমানে ইউরিয়া সারে প্রতি মেট্রিক টনে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হচ্ছে।

নতুন এই তিনটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহের ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বাড়বে। বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন কারখানা স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নেও তারা সমান্তরাল গুরুত্ব দিচ্ছে।